
কালিয়া প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ফরিদ মোল্যা (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে ঐ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদ মোল্যাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত ফরিদ মোল্যা কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত সুরত মোল্যার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ইটভাটায় চাকুরি করতেন
নিহতের ঘটনায় আফতাব গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
এ সময় কালিয়া অস্থায়ী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয়পক্ষের ২০ জনকে আটক করে কালিয়া থানায় হস্তান্তর করেন।
এ সময় আটকৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চনপুর গ্রামের পিকুল চেয়ারম্যান ও আফতাব মোল্যা পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং থানায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ঈদের দিন থেকে গ্রামে উত্তেজনা চলছিল।গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে পিকুল চেয়ারম্যান পক্ষের সানোয়ার নামের একজন আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আফতাব মোল্যা পক্ষের লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হন। এর জের ধরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় পিকুল চেয়ারম্যান পক্ষ আফতাব মোল্যার বাড়িতে হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ফরিদ মোল্যাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত আহতে সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।