
জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনার বিভিন্ন কোরবানির হাটে ক্রেতা হয়ে পশু ক্রয় করতে যেয়ে অনেকেই দাম শুনে দর্শক হয়ে ঘুরছেন। হাটে প্রচুর পরিমাণ পশু উঠলেও দাম চড়া। তাই অনেকেরই কোরবানী দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও গরু কেনা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। অনেকেই তিন সপ্তাহ ধরে পশু কেনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।
আর মাত্র একদিন পরেই ২৯ জুন পবিত্র ঈদুল আযহা। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দলে দলে মানুষ ছুটছে কোরবানির পশুর হাটে। প্রতিটি গরু কিনতে ৫ থেকে ৭ জন হাটে যাচ্ছেন। গরু দেখার পাশাপাশি দামদর করতে যেয়ে অনেকেই নিরব হয়ে পড়ছেন। গরুর দাম শুনেই যেন তারা অবাক হয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার হেসে দিয়ে নিজেকে দর্শক বলে দাবী করছেন।
বটিয়াঘাটার বিএলজে স্কুল মাঠে গরু কিনতে এসেছেন জহিরুল ইসলাম। তার ইচ্ছা মিডিয়াম সাইজের একটি গরু কিনে বাড়িতে নিবেন। তার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাজেট একলাখ থেকে একলাখ বিশ-ত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনবো। কিন্তু যে সব গরু গেল বছর মূল্য ছিল এক লাখ টাকা, এ বছর তার দাম চাইছে দেড় লাখের উপরে। তাই লজ্জায় কিছুটা দর্শক হয়ে মাঠে ঘুরতে হচ্ছে। এমন কথা জানালেন অনেক ক্রেতাই।
বাড়িতে গরু লালন-পালন করে হাটে তুলেছেন একই গ্রামের লান্টু গাজী। তার নিকট গরুর দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বছর গরুর খাবারের মূল্য অনেক বেশী। একটা গরু পালন করে বিক্রয় উপযোগী করতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। তাই মূল্য লাখের উপরে না চেয়ে উপায় নেই। খাবারের মূল্য বেশী হওয়ায় দামও বেশী চাইতে হচ্ছে। তাছাড়া এবার ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারায় দাম বৃদ্ধিতে রয়েছে।
খুলনা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম আয়ূব আলী বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুন কোরবানী উপযোগী পশু রয়েছে। তবে পশুর মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে খাবারের দাম বেশী। তাছাড়া লালন-পালন খরচ রয়েছে। তবে বিক্রেতারা যে খুব একটা দাম বেশী চাইছেন তাঠিক নয়। তাদেরও গরু বিক্রি করতে হবে। রেখে দিলে খাওয়া খরচ আরও বেশী হবে। সাধারণত বিক্রেতারা চায় দাম বাড়াতে আর ক্রেতারা চায় দাম কমাতে। এরই মধ্যদিয়ে কেনাবেচা হয়।