
খুলনায় চোখ রাঙ্গাচ্ছে ডেঙ্গু
জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনা জেলাসহ বিভাগে ডেঙ্গু চোখ রাঙ্গাচ্ছে। ঈদ-উল-আযহার পরে খুলনায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তার পর থেকে প্রতিদিনই বাড়ঝে ডেঙ্গু রোগী।
খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জন ডেঙ্গুরোগী নতুন ভর্তি হলেন। এ নিয়ে তিন দিনে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা ১৪ জন। আর চলতি বছর মোট সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৬ জন। তিন দিনে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন রোগী। শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২১ জন। এ তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রমতে, গত ৬ জুন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। এদিনে ২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র গ্রহণ করেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৯ জন। পরের দিন ৭ জুন নতুন রোগী ভর্তি হয় ৬ জন। ছাড়পত্র গ্রহণ করেন ৯ জন আর
এদিনে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৬ জন। গতকাল ৮ জুন নতুন ভর্তি হয় ৪ জন রোগী। হাসপাতালে মোট ভর্তি ছিলেন ২১ জন। এদিনে কোন রোগী ছাড়পত্র পায়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন খুলনা জেলার সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রব। তবে শুধুমাত্র এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু রোগ হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং এ মশা যেন কাঁমড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্বাধারণত স্বচ্ছ ও পরিস্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পাড়ে না। বিভিন্ন পাত্রে পানি বেধে থাকা, ফুলের টবে জমে থাকা পানিসহ বিভিন্ন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা তাদের বংশ বিস্তার করে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের দ্বারা এবং এ ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কাউকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এবার এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবাহী এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এ ভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল আজিজ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ খুলনা সিটি কর্পোরেশন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ট্রেন পরিষ্কার, নিয়মিত ফোকার মেশিন দিয়ে মশা নিরোধক ঔষধ সিটানোর সহ যে সকল বাড়িতে ছাদবাগান রয়েছে তা মনিটরিং করছে। সে কারণেই ঢাকা বা অন্যান্য জেলা তুলনায় খুলনাতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কম। এ সময় তিনিও সকলকে সতর্ক ও সচেতনতা পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান।
খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা জুলাই মাস থেকে বাড়তে শুরু করেছে। গ্রাম-গঞ্জে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আগামী মাসেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডাক্তার নিয়াজ মুস্তাফি আরো বলেন, চিকিৎসকরা শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এজন্য প্রয়োজন সকল স্টেক হোল্ডারদের সমন্বিত কার্যক্রম। তিনি বলেন কোন অবস্থাতে ই বাড়ির চারপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না এ দায়িত্ব সাধারণ মানুষকেই নিতে হবে। আর দুদিনের বেশি সময় জ্বর হলেই চিকিৎসক কিংবা নিকটস্থ হাসপাতালে ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।