
শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা : খুলনা-৬ (পাইকগাছা -কয়রা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ কে পরাজিত করে দাঁড়িপাল্লা পথিকের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী মনোনীত এই প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে ২৫ হাজার ৪৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ ভোট।
অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীককে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মনিরুল হাসান বাপ্পী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫১৩ ভোট। ভোট গণনার শেষ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী এ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মন্ডল (কাস্তে) পেয়েছেন ১ হাজার ৫০২ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আসাদুল ফকির (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৮ ভোট এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭২ ভোট।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা—গেছে খুলনা-৬ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১৫৫ টি। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৪৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ১ জন। নির্বাচনের মোট প্রাপ্ত ভোট পড়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৪১৮ টি। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ১৬ হাজার ১৯৫ টি।
বাংলাদেশের নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, কোন প্রার্থী মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে (এক/অষ্টমাংশ) ১২.৫ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্রাপ্ত হয়। খুলনা-৬ আসনে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়াই প্রায় ২ লাখ ১১ হাজারের কিছু বেশি। সেই হিসেবে (এক /অষ্টমাংশের) সীমা ছিল প্রায় ২৬ হাজার ভোটের কাছাকাছি।
এই হিসেবে দেখা যায়, কাস্তে প্রতীকের প্রশান্ত কুমার মন্ডল, হাতপাখা প্রতিকের আসাদুল ফকির এবং লাঙ্গল প্রতীকের মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর—এই তিনজনই নির্ধারিত সীমার অনেক কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বিজয়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং রানার আপ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী উভয়েই প্রয়োজনীয় সীমার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত অক্ষুন্ন রয়েছে।
খুলনা-৬ আসনটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় নির্বাচনী এলাকা। এ আসনেটি দু’টি উপজেলায় ১৭ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সন্ধ্যার পর থেকে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনা শুরু হয়। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসতে থাকলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে ২৫ হাজার ৪৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয় নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, খুলনা-৬ আসনে (পাইকগাছা-কয়রা) আসনটি উপকূলীয় জনপদ হওয়ায় এখানকার উন্নয়ন, নদীভাঙ্গন, জলবদ্ধতা ও কর্মসংস্থানে ইস্যু এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থী এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চান। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হন এবং ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার মাধ্যমে এই আসনে ভোটের ব্যবধান ও জনসমর্থনে যে স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।

