
জন্মভূমি রিপোর্ট
সুনসান নিরবতা। শুধু চলছে হিসাব-নিকাশ। কোথা থেকে কি হয়ে গেল তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ যেনো অকল্পনীয় এক সমীকরণ। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস জয় পেয়েছে। আবার সম্মানজনক আসন পেয়েছে জামায়াত। ২০ বছর পর পুনরায় বিএনপি সরকার গঠন করবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। এ খবরটি নি:সন্দেহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের আনন্দের সংবাদ। গত ১৭ বছরের জেল, জুলুম, গুম-খুন আর নানা নীপিড়নের পর রাষ্ট্র ক্ষমতা পেতে যাওয়া সঙ্গত কারণেই খুশির খবর। যা দেশব্যাপী আনন্দের শেষ নেই। এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দলের চেয়ারম্যান বিশ্ব নেতাদের নজরে এসেছেন। বিশ্বের গণতন্ত্রকামী নেতাদের জীবন কাহিনীর কাতারে প্রিয় নেতা। তারপরও খুলনার কট্টরপন্থি বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুখে হাসি নেই। কি মহানগর, কি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। সবখানে চলছে এক বিষাদের ছাঁয়া। কেননা তাদের মতে খুলনা-২ আসনটি হলো বিএনপি’র জন্য মর্যাদার আসন। এটিকে সব সময় খুলনার পিআইপি আসন ধরা হয়। যে কারণে জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রার্থী করা হয়। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বকে সমীহ করেন তার বিপক্ষের নেতারাও। কিন্তু আকাশ ভেঙ্গে পড়ল বিএনপি কর্মীদের মাঝে। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে যখন ঘোষিত হলো তিনি জামায়াত নেতা শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালের কাছে পরাজিত হয়েছেন। তার এই পরাজয়টি মেনে নিতে পারছে না কট্টরপন্থি বিএনপি অনুসারীরা। তাদের মুখে হাসি নেই। বিষাদে বিলীন হলে গেল সারা দেশের ভূমিধস বিজয়।
তেমনি জামায়াতের কট্টরপন্থি অনুসারীদের মুখে হাসি নেই। স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথমবার সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে জামায়াত প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসতে যাচ্ছে। দলের অনেক স্থানে অখ্যাত নেতারা বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন। এমনকি খুলনা-২ আসনে বিজয়টি তাদের অন্যতম চমক। তার পরেও কট্টরপন্থি অনুসারীদের আক্ষেপ থেকে গেছে। তারাও হিসাব-নিকাশ করছে। কেননা, খুলনা তথা সারা দেশে সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন, দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ব্যক্তি সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড করবেন এমন ধারনা ছিল সবার কাছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে জানা গেলো তিনি পরাজিত হয়েছেন বিএনপি’র আরেক হেভিওয়েট নেতা আলী আসগার লবির কাছে। এটি জামায়াতের কট্টরপন্থি অনুসারীদের কাছে আপসেট। যে কারণে তাদের মুখে হাসি নেই। অতৃপ্ত প্রাপ্তির মাঝে তারা নিরাশা-হতাশায় নিমজ্জিত। যা কেই কামনা করেনি। তবে উদারপন্থিরা সব কিছু মেনে নিয়েছেন।

