
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া : খুলনার ডুমুরিয়াসহ সারা দেশে আবার হঠাৎ মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে । প্রতিবছরের মতো এবারও মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শহর ও গ্রাম-সবখানেই মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো ধান চাষের সময় জমিতে জমে থাকা পানি, খালবিল ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলো মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, তেমনি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি এখন আর শুধু বিরক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য-সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের মোঃ শাহজাহান ফকির বলেন তারাবিহর নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসল্লিরাও মশার কামড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
একসময় আমাদের শৈশবে দেখা যেত, সরকারি উদ্যোগে উড়োজাহাজ বা আকাশপথ ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ এলাকায় মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। আকাশ থেকে ওষুধ ছিটানোর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বড় এলাকার মশার সংখ্যা কমে যেত। দুঃখজনক হলেও সত্য সেই কার্যকর উদ্যোগ এখন আর দেখা যায় না। কেন এই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে গেল, তা আজও সাধারণ মানুষের অজানা।
জিএম মিন্টু বলেন বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।। শহরাঞ্চলে কিছু কার্যক্রম চোখে পড়লেও গ্রামাঞ্চল উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো মশার উৎপত্তিস্থল সৃষ্টি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রামীণ জলাবদ্ধ জমি, ধানখেত ও অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা। তাই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, দেশব্যাপী সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।