
এস এম সাইফুল ইসলাম : আসছে ঈদুল আজহা, সাধ্য অনুযায়ী কেউ কিনছেন উট, গরু-ছাগল। বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আহনাফ এদের থেকে একটু আলাদা। শহরের হাট-বাজার ছাড়াও তিনি চলে যান আশপাশের মফস্বলগুলোতে গরু দেখতে। উদ্দেশ্য ভাল গরু কেনা।
তরুণ প্রজন্ম যেখানে মোবাইলে ফেসবুক আর টিকটক নিয়ে ব্যস্ত সেখানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলার অফ বিজনেস এ্যাডমিনিসট্রেশনে পড়া আহনাফ সময় পেলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গরু-ছাগল নিয়ে। চলে যান গরুর হাঠে, ছাগলের হাটে। আহনাফ বলেন,গরু সম্পর্কে আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। বাবার সাথে হাটে যাওয়া থেকেই এই আগ্রহ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই জীবন্ত প্রাণীর প্রতি একটু বেশি আকর্ষণ। ২০১০ সালে তখন ষষ্ঠ শ্রেনিতে পড়ি তখন থেকে গরুর হাটে যাই। বলতে গেলে একাই গরু কেনা হয়। এর পাশাপাশি বাসার যাবতীয় কাজ, বাজারঘাট, কাচাবাজার, মাছ, মাংস খুলনায় থাকলেও কেনাহয়। ঢাকায় থাকলে আমি নিজেই কিনি। আহনাফ জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি আমি কোনো ইনকামে এখন পর্যন্ত জড়িত নই। বাসার মানুষ জন অনেক খুশি হয় অনেক আস্থা পায়, যেহেতু ছোটবেলা থেকে আমি নিজে কেনাকাটা করি তারা বিশ^াস করে যে আমি যে কোন জিনিস বা যাই কিনব তারা তাতে সন্তুষ্ট হবে। এখন পর্যন্ত যতবার গরু কিনেছি আলহামদুল্লিাহ সবাই সন্তুষ্ট। গরু কেনার আগে আমি আসলে দেখতে যাই, কেমনবাজার, কেমন দাম যাচ্ছে। ডুমুরিয়া, খর্নিয়া, শাহাপুর, তেরখাদা এবং নদীর ওপার আমতলার হাট। এসব হাটে ঈদ ছাড়াও যাওয়াহয়। পরবর্তীতে কিছু করার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে আহনাফ জানায়, যেহেতু আমার গরু ছাগলের প্রতি আগ্রহ আছে তাই গরুর খামার করার শখ। বা যখন আয় করবো, চাকরী বাব্যবসার পাশাপাশি গরু বা আগ্রো ব্যবসা ডেভোলপ করার ইচ্ছে রয়েছে। আর আগ্রো ব্যবসা করার পিছনে একটা বড় কারণ যেটা আমাকে উৎসাহিত করে দেশের মানুষ এখন ভেজাল পণ্য খেয়ে অভ্যস্ত। আমি চাই মানুষজন যেন নিরাপদ মাংস পেতে পারে। সুস্থ গরু চেনার উপায় কি পরামর্শ চাইলে আহনাফ জানান,একটা সুস্থ গরু চেনার উপায় গরুর নাকে সব সময় ঘাম থাকবে, গরুর লেজ সব সময় নাড়াচাড়া করবে। গরু খুব রাগী হবে। গরুর গায়ে হাত দিলে গরু লাফিয়ে উঠবে। টান দিলে লেজ দিয়ে বাড়ি দেয়ার চেষ্টা করবে। গরুর চামড়ায় টান দিলে সাথে সাথে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। যদি আস্তে ফেরত আসে তাহলে বুঝতে হবে গরুর মধ্যে ফিট খাওয়ানো বা বাজে খাবার খাইয়ে মোটা তাজা করা হয়েছে।