
জন্মভূমি রিপোর্ট : প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিপক্ষ-প্রতিযোগিতা না থাকায় ভোটের আমেজ নেই এবারের নির্বাচনী মাঠে। অংশগ্রহণমূলক শব্দটি একেবারে অনুপস্থিত। জনশূন্য নির্বাচনী ক্যাম্প ও মাঝে মধ্যে মাইকিং দ্বাদশ নির্বাচনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। নির্বাচন বর্জনকারীরা নীরব, সংখ্যাগরিষ্ঠরা গাঢাকা দিয়েছে গ্রেপ্তার এড়াতে। নির্বাচনের পক্ষের শক্তি শাসক দলের সক্রিয় কর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত। আলোচিত দু’প্রার্থীর জনসমর্থন উনিশ-বিশ নয়, ষাট- চল্লিশে। এ চিত্র রূপসা উপজেলার তালিমপুর থেকে ইলাইপুরের। গ্রাম দুটি নৈহাটি ইউনিয়নের। খুলনা- ৪ আসন এলাকায়।
দেশব্যাপী এক দফার আন্দোলন চলছে। সাথে অবরোধ। বিএনপি সহ সমননাদের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। একই সাথে দাবি বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজনীতিকদের মুক্তি।
রূপসা নদীর গা ঘেষে অবস্থান নৈহাটি ইউনিয়নের। শহরতলীর রাজনৈতিক সচেতন ইউনিয়ন। বিএনপি, জামায়াত, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন অধ্যুষিত এলাকা। গেল পাচ বছরে সরকার পতনের আন্দোলনে এসব দলের কর্মীরা সক্রিয় ছিল। তারা দ্বাদশ নির্বাচনের বিপক্ষে। একই দাবি নিয়ে পৃথক অবস্থানে দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামোতে সিপবিও সোচ্চার। এ আসনের বাসিন্দা নির্বাচনী রাজনীতিতে আলোচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, ইশা আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওত হোসেন। তাদের পৈত্রিক ভিটে যথাক্রমে আইচগাতী, মৈশাগুনি ও কাজদিয়া গ্রামে। জাতীয় নেতারা বড়ধরনের ভোট নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা এ নির্বাচন বর্জনের পক্ষে।
এ আসনের আলোচিত প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী। শাসকদল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি দশম (উপনির্বাচন ও একাদশ সংসদ নির্বচনে সদস্য নির্বাচিত হন)। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে। এলাকার মানুষের সাথে সম্পর্ক না রাখা, উন্নয়নের স্পর্শ না পাওয়া এবং দ্রব্যমূল্য উর্ধগতির কারণে তিনি তোপের মুখে। ঈদ, পুজা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শেষে তখনই ঢাকা উড়াল দেন। তার শক্ত প্রতিদ্বন্ধী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। এক সময়কার খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। সুন্দরবন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি। বড় পরিচয় জেলা আওয়ামী লীগের প্রায়ত সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার সহোদর। কেটলী প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে। ত্রুটির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও হাইকোর্ট তা ফিরিয়ে দিয়েছে। এ কারণে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তার কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। এ প্রার্থীর মনোনয়ন বহাল হওয়ার পর আওয়ামী লীগের এক অংশ মিষ্টিমুখ করে। স্বতন্ত্রপ্রার্থী নতুন মুখ হওয়ায় তিনি সমালোচনার উর্ধ্বে। সংসদ সদওস্যর দুর্বলতা স্বতন্ত্রপ্রার্থীর অনুসারীরা কাজে লাগাচ্ছেন।
নির্বচনী হাল হাকিকত সম্পর্কে নৈহাটি ও টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নের যথাক্রমে কাজদিয়া, তিলক, শ্রীরামপুর, জাবুসা, আমদাবাদ, ইলাইপুর, বাগমারা, জয়পুর, তালিমপুর, কিছমত খুলনা, নিকলাপুর, সামন্তসেনা গ্রামের ১৪ জন ভোটার নানা তথ্য দিয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এদেরপ্রায় সবাই ভোট দিতে পরেননি। তথ্য দাতাদের মধ্যে ৫ জন ভোট বর্জনকারী। তারা নানা দর্শনের মানুষ। সরকারের বিপক্ষে তাদের অবস্থান। নির্বাচন নয় সরকারের পদত্যাগ চেয়েছেন বাগমারা গ্রামের শেখ রেজাউল ইসলাম,
আবু সাইদ, জয়পুর গ্রামের রেবা খাতুন, রোজিনা বেগম ও ইলাইপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার ইউসুফ শেখ। তাদের অভিযোগ কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য একটি পক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে। চাপ সৃষ্টিকারীরা শাসক দলের সাথে সমপৃক্ত। নৈহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শাসক দলের প্রার্থীর পক্ষে অপরদিকে টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বতন্ত্রপার্থীর পক্ষে। উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে।
॥ যেসব কারণে নৌকা চ্যালেঞ্জের মুখে ॥
পাচ বছরে সংসদ সদস্যের কাছে সুবিধা না পাওয়া, দ্বাদশে দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিরোধিতা, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান, দলের ওয়ার্ড পর্যায়ে দ্বিধা বিভক্তি, উন্নয়ন তৎপরতায় দৃশ্যমান না হওয়া, তৃণমূল কর্মীদের সাথে সম্পর্ক না রাখা ইত্যাদি। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের বিরোধিতার বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে।
॥ যেসব কারণে কেটলীর পাল্লা ভারি ॥
দ্বাদশ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থন পাওয়া, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যের আর্শিবাদ বঞ্চিত হওয়া প্রার্থীদের সমর্থন পাওয়া, বিএনপি, জামায়াত, ইশা আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের একটি অতি উৎসাহীদের সমর্থন পাওয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত দলের যে কোন কর্মী পচ্ছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দানের সুযোগ ও প্রায়াত নেতা মোস্তফা রশিদী সুজার অনুসারীদের সমর্থন পাওয়া।
১৯৯১ সালে খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়াই জেলা আওয়ালীগের সাধারণ সম্পদক মোস্তফা রশিদী সুজা এখানে দলের প্রাণপুরূষ হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি দলকে তৃণমল পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ (১২ জুন) ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি হুইপের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তার ইমেজ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গড়িয়েছে। এসব কারণে নৈহাটি ও টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র পার্থীর পাল্লা ৬০ শতাংশে।