
মোঃ এজাজ আলী : সনাতন পদ্ধতিতে বেশ কয়েক বছর চিংড়ি চাষে লাভের মুখ দেখতে পারছে না অধিকাংশ চাষি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রোগ-বালাইসহ নানাবিধ কারনে উৎপাদনের আগেই চিংড়ি মারা যাওয়ায় লোকসান হয়েছে অধিকাংশ চাষির। চিংড়ি চাষিরা যখন হতাশায় দিন পার করছে ঠিক তখনই মৎস্য অধিদফতর তাদেরকে দেখিয়েছে নতুন সম্ভাবনা ও আশার আলো। সাসটেইনেবেল কোষ্টার অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্পের আওতাধীন গঠিত ৩০০ ক্লাষ্টারের সাড়ে সাত হাজার চিংড়ি চাসি বিপর্যয়ের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। সাসটেইনেবেল কোষ্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্পের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাছ চাষিদের সুসংগঠিত করে ৩০০ ক্লাষ্টারকে প্রকল্পভূক্ত করা হয়। প্রতিটি ক্লাষ্টারে রয়েছে ২৫টি ঘের। এসব ঘেরের আয়তন ৩৩ শতক থেকে ১৫০ শতক। প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘের প্রস্তুতির পর ক্লাষ্টারগুলোকে ম্যাচিং গ্র্যান্ট (আর্থিক অনুদান) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে বলা হয়। ক্লাষ্টারভূক্ত চাষিদের একর (একশ’শতক) প্রতি অফেরতযোগ্য ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এ অনুদান দিয়ে তারা খনন ও রাস্তা নির্মাণ বাদে পোনা মজুদ, ঘের প্রস্তুত,গুড অ্যকোয়া প্রাকটিস, বিদ্যুৎ সংযোগ, অফিস কক্ষ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ যাবতীয় খরচ মেটাতে পারবেন। তবে অধিকাংশ চাষি পুঁজি সংকটে প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘের খনন ও রাস্তা নির্মাণে ব্যর্থ হয়। ফলে শর্তপূরণ সাপেক্ষে মাত্র ১৪৬টি ক্লাষ্টার ম্যচিং গ্রান্টের আবেদন করতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে যাচাই-বাছাই করে দুই দফায় ৪৬টি ক্লাষ্টারকে ম্যাচিং গ্র্যান্টের চেক প্রদান করে মৎস্য অধিদফতর। অনুদান পাওয়া ক্লাষ্টারগুলো ভালো উৎপাদনের স্বপ্ন নিয়ে পোনা মজুদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিংড়ি চাষিদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলার বড় ডাঙ্গা চিংড়ি চাষি ক্লাষ্টার-১ এর সভাপতি সুভেন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ক্লাষ্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে সফল হয়েছি। মৎস্য অধিদফতরের পরামর্শে ঘের প্রস্তুত করে ম্যাচিং গ্র্যান্ট পাওয়ার আশায় ছিলাম। একটু দেরি হলেও আর্থিক সাপোর্ট পেয়ে আমি খুশি। কয়রা উপজেলার খড়িয়া চিংড়ি চাষি ক্লাষ্টারের সাধারন সম্পাদক অনিমেষ কুমার বলেন, ২২ বছর ধরে চিংড়ি চাষ করছি, মাটির, পানির গুনাগুন আগের মতো না থাকায় উৎপাদন ভালো হয় না। আমরা কয়েক বছর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় খুব চিন্তিত ছিলাম। এ বছর মৎস্য অফিসের সহযোগীতায় নতুন স্বপ্ন দেখছি। প্রথম কিস্তির আট লাখ টাকা পেয়ে আমরা ঘের প্রস্তুত করছি। কয়রা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল হক বলেন, কয়রায় ১০টি ক্লাষ্টার গঠন করা হয়েছে। ক্লাষ্টারভূক্ত চাষিদের নিজেদের উদ্দ্যেগে খননের মাধ্যমে ঘেরগুলোর গভীরতা বাড়াতে হবে। মাত্র একটি ক্লাষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী ঘেরের গভীরতা ও রাস্তা নির্মাণ করতে পারায় তারা অনুদান পেয়েছে। বাকিগুলোও শর্তপূরণ করে ম্যাচিং গ্র্যান্ট করে আবেদন করতে পারবে। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল বলেন, বাগেরহাটে ৯৬টি ক্লষ্টার রয়েছে। শর্তপূরণ করে ম্যাচিং গ্র্যান্ট করে ১৬টি আবেদন করে। আশা করছি এ পদ্ধতিতে উৎপাদন অনেক বাড়বে এবং চাষিরা লাভবান হবেন।

