
জন্মভূমি রিপোর্ট : প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা নেই খুলনার দুটি আসনের স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর। বির্তকিত কর্মকর্তাদের অনত্র বদলী অথবা নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা রিটানিং কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছেন খুলনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা এবং খুলনা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
খুলনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা জানান, নির্বাচন আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে গত ১ জানুয়ারি দিঘলিয়া উপজেলা অফিসার্স ইনচার্জ, একই দিনে রূপসা উপজেলা অফিসার্স ইনচার্জের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাদেরকে অন্যত্র বদলীর দাবি জানানো হয়। এছাড়া সংসদ সদস্য সালাম মূর্শেদীর এ পি এস ও সরকারী মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ আক্তারুজ্জামান, ৩১ ডিসেম্বর রূপসা ঘাটভোগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজান, দিঘলিয়ার ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ বুলু শেখ, বারাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান পাভেল, তেরখাদার ছাগলাদাহ ইউপি চেয়ারম্যান দীন ইসলাম, দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া গাজী, সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাম মূর্শেদী, ৩ জানুয়ারি রূপসা কলেজের অধ্যক্ষ ফ ম সালাম ও বঙ্গবন্ধু কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফেরদাউস সরদারের বিরুদ্ধে জেলা রিটানিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া ৩৮ টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন ও অধিক ঝুঁকিপুর্ন চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আবেদন করেছেন।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা অভিযোগ করে বলেন, আব্দুস সালাম মূর্শেদীর ভাগ্নে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (তেরখাদা), পি আই ও (তেরখাদা) সহ বেশ কয়েকজন চাকুরে এবং সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, রূপসা কলেজ, সৈয়দ আরশাদ আলী এন্ড সবুরুন্নেছাা গালর্স কলেজের যে সকল শিক্ষকবৃন্দ প্রিজাইডিং অফিসার বা সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পাবেন তারা ইতিমধ্যে রূপসা কলেজের অধ্যক্ষ ফ ম সালাম ও বঙ্গবন্ধু কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফেরদাউস সরদার সংসদ সদস্য সালাম মূর্শেদীর পক্ষে কাজ করছেন। তাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েকজন কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলীর দাবি জানিয়েছেন খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আকরাম হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান, শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশিষ বিশ্বাস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো, আশরাফ হোসেন সহ বেশ কয়েকজন অফিসারের প্রত্যক্ষ মদদে নারায়ন চন্দ্র চন্দ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপরোক্ত অফিসার সহ তার ভাইপো শিক্ষক দেবাশিষ চন্দ সহ তার অনুসারি অনেক শিক্ষককে কাজে লাগিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারকে কারচুপি করে জোর পূর্বক হারিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনুরূগতভাবে ২০২১ সালেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা নির্বাচন অফিসার কল্লোল বিশ্বাস পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দের নির্দেশনা পালন করায় ১৪ টি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে ১২ জনই পরাজিত হন। এছাড়া এ আসনে ৮৯ জন পিজাইডিং অফিসারের মধ্যে ৭৯ জনই একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হওয়ায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদেরকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আকরাম হোসেন আরো বলেন, ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উল্লেখিত অফিসার ও সংসদ সদস্যের আজ্ঞাবহ একটি বিশেষ গোষ্ঠির শিক্ষকরা পক্ষপাতিত্ব করায় এবং সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দের নির্দেশনা পালন করায় ১৪ টি ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে ১২ জনই পরাজিত হন। বিদ্রোহী ও অন্য দলের চেয়ারম্যানদের নিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় ওই সব নির্বাচনের বিতর্কিত ফলাফল ও নানা অসঙ্গতি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। বর্তমানে এসব মামল্য আদালতে বিচারাধিন রয়েছে। অছাড়া গত ১৫ বছর ধরে নারায়ন চন্দ্র চন্দ সংসদ সদস্য থাকায় এসব অফিসারদের সাথে তার রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এসব কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এমনকি তার মিশন বাস্তবায়নে বেশ কয়েকরণ অফিসারকে পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়ম মাফিক ২-৩ বার অন্যত্র বদলি হয়ে গেলেও পুনরায় ডিও লেটার দিয়ে তাদেরকে ডুমুরিয়া উপজেলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটাররা আশঙ্কা করছেন এসব কর্মকর্তা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে কোনো ভাবেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বরং তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
খুলনার রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসিন আরেফীন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। আমরা প্রার্থীদের অভিযোগ পেলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় জরিমানাও করা হচ্ছে। কোথাও কোন অপ্রতীকর ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশ ভালোই আছে। কাজেই ৭ জানুয়ারি সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যেতে পারবে। নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের কোন সুযোগ নেই।