
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। সুন্দরবনের বিশাল অংশ, ভোমরা স্থলবন্দর, চিংড়ি শিল্প এবং উর্বর কৃষিজমি সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলার অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক নানা কারণে এই জেলাটি তার প্রাপ্য চাহিদা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।
পাঁচ বছর পরপর সরকারের পরিবর্তন হয়, কিন্তু সাতক্ষীরার ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন ঘটেনা। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের আগমনে সাতক্ষীরার মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে সাতক্ষীরাবাসীর প্রত্যাশা ও বাস্তবতা এক বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের অনেক জেলার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হলেও, সাতক্ষীরা বরাবরই এক দৃশ্যমান বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন, ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব এই জেলার মানুষদের ব্যাপকভাবে হতাশ করেছে। জাতীয় বাজেটে কিংবা মেগা প্রকল্পগুলোতে এই জেলা কখনোই অগ্রাধিকার পায়নি। রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে অনেক জেলার চেহারা পাল্টে গেলেও, সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন এই ৫৪ বছরে পরিলক্ষিত হয়নি।
২০১৩-২০১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার বিরোধী তীব্র আন্দোলনের কারণে এই জেলাটি অলিখিতভাবে সরকারের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ জেলা হয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা, হত্যাযজ্ঞ, এবং আতঙ্কের কারণে এই জেলার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। জামায়াত ও বিএনপি দলীয় আধিক্য থাকায় সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে এই জেলাকে বঞ্চিত করা হয়। তখন উন্নয়ন বাজেট বা মেগা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সাতক্ষীরার প্রতি দেখানো হয়েছিল চরম বৈষম্য।
তবে, রাজনৈতিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবতার খাতিরে এটি স্বীকার করতে হবে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাতক্ষীরায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে ছিল ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী বাইপাস সড়ক, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার কোটি টাকার স্থায়ী বাধ নির্মাণের সূচনা, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, যুব উন্নয়ন একাডেমী, সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভোমরা স্থল বন্দরের সম্প্রসারণ, বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, সাতক্ষীরা হর্টিকালচার সেন্টার, কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ককে ৩৬ ফুটে প্রশস্ত করণ, সাতক্ষীরা-ভোমরা সড়ক জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ এবং সাতক্ষীরা পৌরসভাকে “ক” শ্রেণীতে উন্নীতকরণ। এছাড়া সাতক্ষীরা পাকাপোল ব্রিজ, আশাশুনি মানিকখালি ও মরিচ্চাপ ব্রিজ, আশাশুনি বাইপাস সড়ক, কালিগঞ্জ সেতু, শ্যামনগরে পৌরসভা স্থাপন, সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ, প্রতি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ফায়ার স্টেশন নির্মাণ। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ কয়েক যুগ পর সাতক্ষীরায় একজন পূর্ণ মন্ত্রী উপহার দিয়েছিল, যেটি ছিল সাতক্ষীরাবাসীর পরম পাওয়া।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রেল লাইন, ফোর লেন সড়ক, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, জাদুঘর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইকোনোমিক জোনসহ বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও সরকার সেগুলি বাস্তবায়ন করেনি। তারপরও আপনি যদি নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করেন তবে আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে, স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি-জামায়াত সাতক্ষীরার জন্য যে উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে।
সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখনই ক্ষমতায় ছিল, তখন এই জেলার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এম. মুনসুর আলীর হাত ধরে সাতক্ষীরায় ‘সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস’ স্থাপিত হয়েছিল, যা ছিল এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিল্পায়নের প্রথম বড় পদক্ষেপ। জিয়াউর রহমানের এই উদ্যোগের কারণে তৎকালীন সময়ে সাতক্ষীরায় বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা আজও সাতক্ষীরার মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।
কিন্তু জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে বিএনপি যখন ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে, তখন তারা সাতক্ষীরার উন্নয়নে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে। সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলসটি একসময় রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপির শাসনামলে সাতক্ষীরায় বড় কোনো শিল্প-কারখানা, জাতীয় মানের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা যুগান্তকারী কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি এই জেলাটিকে চরম অবহেলায় ফেলে রেখেছিল বছরের পর বছর।
সাতক্ষীরাবাসী ১৯৯০ সালের পর থেকে একটি শহর বাইপাস সড়কের দাবী জানিয়ে আসছিল।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে সাতক্ষীরা বাসী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বাইপাসের জন্য আন্দোলন করলেও জোট সরকারের নিকট থেকে বাইপাস আদায় করতে পারেনি। অবশেষে ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক প্রতিষ্ঠা করে। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালের উপরের জরাজীর্ণ ছোট্ট মাত্র কয়েক ফুটের স্টিল সেতুটি পুনরায় নির্মাণের জন্য সাতক্ষীরাবাসী ২০০১ সাল থেকে বিএনপি জোট সরকারের উপর দাবী জানিয়ে আসলেও তারা সেটি কর্ণপাত করেনি। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ব্রিজটি বাস্তবায়ন হয়।
আজকে যে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে, এর পেছনে সাতক্ষীরাবাসীর অবদান কোনোভাবেই কম নয়। রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে সাতক্ষীরার মানুষের ত্যাগ এই বিজয়ের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে সাতক্ষীরাবাসী শুধু জামায়াতের জন্য নয়, বরং বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের মুক্তির জন্যই জীবন ও রক্ত দিয়েছে।
নতুন ক্ষমতায় বসা বিএনপি সরকারের নিকটে সাতক্ষীরাবাসীর বেশ কয়েকটি দাবী রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম রেল লাইন, পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইকোনোমিক জোন, জাদুঘর, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ভোমরা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক শিশু পার্ক, ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, জলাবদ্ধতা নিরসন ,সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল চালু করা, নার্সিং কলেজ স্থাপন, সুন্দরবন কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ ও উপকূলীয় টেকসই বেড়িবাধ নির্মাণ করা। এছাড়া শহরের প্রধান সড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীতকরণ, শহরের প্রধান মোড়গুলো বিভিন্ন স্থাপনা ও আইল্যান্ড দিয়ে সাজানো, শহর জুড়ে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক স্ট্রিট লাইটের সুবিধা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সৌন্দর্যমন্ডিত আধুনিক সাতক্ষীরা শহর নির্মাণ।
সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি এবং বিখ্যাত ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ করার লক্ষে সাতক্ষীরায় প্রসেসিং কারখানা তৈরি এখন বর্তমান সরকারের নিকট সময়ের দাবী। বিশেষভাবে বিএনপি’র উচিত টেকনোক্রেট উপায়ে হলেও সাতক্ষীরা থেকে একজন মন্ত্রী বানানো, যাতে সাতক্ষীরাবাসী বুঝতে পারে আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে বিএনপি সরকার তাদের উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়েছে।
সাতক্ষীরার রাজনৈতিক দৃশ্যপট দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ছকে বন্দী। ঐতিহাসিকভাবেই এই জেলাটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম প্রধান দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এবারের জাতীয় নির্বাচনে সাতক্ষীরার ৪টি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় সেই বাস্তবতারই অকাট্য প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে, বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটের সমীকরণ বা নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপি সাতক্ষীরায় সবসময় জামায়াতের ছায়াতলেই থেকেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরায় এমন কোনো যুগান্তকারী উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি, যা সাধারণ মানুষকে দলটির প্রতি স্থায়ীভাবে আকৃষ্ট করতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকার যদি সাতক্ষীরায় নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং জামায়াতের এই দুর্গ ভাঙতে চায়, তবে এর একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে সাতক্ষীরায় ব্যাপক ও দৃশ্যমান উন্নয়ন।
সাতক্ষীরায় বিএনপির শক্তি বৃদ্ধি করতে হলে নতুন সরকারের মাধ্যমে এই জেলায় ব্যাপক ও দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করা অপরিহার্য। বিএনপি যদি তাদের অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই জেলার জন্য নতুন কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এবং কিছু অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করে, তবেই মানুষ জামায়াতের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপির প্রতি আস্থাশীল হবে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো জনকল্যাণ ও উন্নয়ন। তাই জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করে একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে, বিএনপিকে অবশ্যই সাতক্ষীরার উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সাতক্ষীরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরমভাবে অবহেলিত। তারা বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার; উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাব তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই চরম শূন্যতার জায়গাটিতেই বিএনপি সরকারকে আঘাত করতে হবে উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার দিয়ে।
সরকার হিসেবে বিএনপি যদি সাতক্ষীরায় একটি ইকোনমিক জোন বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে হাজার হাজার বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, তবে এই জেলার যুব সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপির পতাকা তলে সমবেত হবে। নাভারণ থেকে ভোমরা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন করা হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, তার সরাসরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে বিএনপি।
একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স করা এবং দীর্ঘদিনের অভিশাপ কপোতাক্ষ ও বেতনা নদীর বিজ্ঞানসম্মত খনন করে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারলে সাতক্ষীরা বাসীর কাছে বিএনপি একটি ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে আবির্ভূত হবে।
মানুষ যখন দেখবে যে, জামায়াতের আবেগ নির্ভর রাজনীতির চেয়ে বিএনপির উন্নয়নমুখী ও বাস্তববাদী রাজনীতি তাদের পেটের ক্ষুধা মেটাচ্ছে, সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে তাদের জানমাল রক্ষা করছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তন ঘটবে। আওয়ামী লীগ সরকার সাতক্ষীরাকে অপছন্দ করার পরও তারা সাতক্ষীরার জন্য যেসব উন্নয়ন করেছে সাতক্ষীরা বাসীর পছন্দের বিএনপি যদি আওয়ামীলীগ সরকারের সেই উন্নয়নকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে তবে সেটি হবে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরায় বিএনপি’র আরও ভয়াবহ ভরাডুবির কারণ।
সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের রয়েছে এক অপার সম্ভাবনা। গত ৫৪ বছরে নানা রাজনৈতিক মেরুকরণ, অবহেলা ও বৈষম্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে এই জেলার মানুষ। কখনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের দুর্গ হওয়ার কারণে কালো তালিকাভুক্ত হতে হয়েছে, আবার কখনো মিত্র দলের অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর রাজনীতির দাবার গুটি হয়ে থাকতে চায় না। নতুন সরকারের কাছে সাতক্ষীরাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশাÑরাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একটি পরিকল্পিত, বৈষম্যহীন ও টেকসই উন্নয়ন।
বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যে দল বা সরকার এই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের এই যৌক্তিক দাবীগুলো পূরণে আন্তরিক হবে, সাতক্ষীরার মানুষ তাদেরকেই সমর্থন জানাবে। সাতক্ষীরার উন্নয়ন কেবল একটি জেলার উন্নয়ন নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার এক অনন্য সোপান।
সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কন্যারে দেশের সবচেয়ে সর্ববৃহৎ জেলা কিন্তু উন্নয়নে কিছুটা হলেও পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু এই জেলা থেকে সরকার প্রতিবছর চিংড়ি ,কাঁকড়া ,শুটকি সবজি সহ নানা প্রজাতির পণ্য থেকে রপ্তানি করে জাতীয় রাজস্বে বড় অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া এই জেলায় ২২ লক্ষ মানুষের বসবাস তার মধ্য দশ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় শেষে না না প্রকার ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এমন কি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে পাঁচ বছরে সাতক্ষীরার উপকূল ছেড়েছে দশ হাজার মানুষ। সে কারণে নতুন সরকারের কাছে সাতক্ষীরার ২২ লক্ষ মানুষের প্রত্যাশা উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই মজবুত ভেড়ি বাধ, খাবার পানির সংকট নিরেশন। জেলার উপকূলের শ্যামনগর , কালিগঞ্জ ,আশাশুনি ওতালা উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় সুন্দরবন থেকে সেই সুন্দরবন এখন বনদস্যুদের দখলে। নতুন সরকারের কাছে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের বড় দাবী সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূল করে সুন্দরবনকে বনদস্যু অবমুক্ত করা। তাছাড়া প্রতিবছর মাছ এবং কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হিসেবেপাঁচ মাস সুন্দরবনের প্রবেশ অধিকার নিষিদ্ধ থাকে। এই পাঁচ মাস বনজীবীরা খুব দুর্দশার ভেতর দিয়ে জীবন যাপন করে ।সে কারণে এই পাঁচ মাসের জন্য বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অথবা এই পাঁচ মাস সুন্দরবনে বনজীবীদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা সরকারের একটি জরুরী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সংস্থাগুলোর সমাধানের প্রত্যাশায় সাতক্ষীরার ২২লক্ষ মানুষ।