
তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ। রবিবার পড়ন্ত বিকেলে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক শ’ নারী। কারও কোলে শিশু, কেউবা স্কুলপড়ুয়া কিশোরী। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ সমাবেশ মনে হলেও, এর ভেতরে ছিল এক গভীর সামাজিক অঙ্গীকার। বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন আর মানবপাচারের বিরুদ্ধে ‘নীরবতা ভাঙার’ শপথ নিলেন এই উপকূলীয় জনপদের নারীরা। একই সঙ্গে উঠে এল নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ‘নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভোটাধিকার সচেতনতা’ শীর্ষক এই ব্যতিক্রমী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল কবির এবং সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজের ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করা। বিশেষ করে নারীদের উদ্দেশে বলব, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করুন। আপনার একটি ভোটই পারে উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ সুগম করতে।”
তিনি আরও যোগ করেন, পরিবারকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। গণতান্ত্রিক চর্চা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ নারী ও শিশু নির্যাতনকে একটি ‘সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু আইন দিয়ে নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকাও একটি অপরাধ। তিনি বিশেষ করে পুরুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একজন বাবা, ভাই বা স্বামী হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণই পারে একটি মেয়ের জীবন নিরাপদ করতে।”
বিনামূল্যে ‘লিগ্যাল এইড’ বা আইনি সহায়তা দিলেও প্রচারের অভাবে প্রান্তিক নারীরা তা থেকে বঞ্চিত হন। সমাবেশে এই সুবিধার কথা তুলে ধরে জানানো হয়, যেকোনো নির্যাতিত নারী এখন সহজেই প্রশাসনের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত নারীরা বাল্যবিবাহ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

