By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: বহুমাত্রিক সংকটে সামুদ্রিক চেলা মাছ
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > বহুমাত্রিক সংকটে সামুদ্রিক চেলা মাছ
সাতক্ষীরা

বহুমাত্রিক সংকটে সামুদ্রিক চেলা মাছ

Last updated: 2026/01/07 at 1:41 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 2 months ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বহুমাত্রিক সংকটে সামুদ্রিক চেলা মাছ। এই সালাম আজ খেতে ছাদে খুবই সুন্দর। কিন্তু জেলেরা এই চেলা মাছ বড় হবার আগেই জালে পরলে ছোট মাছ ধরে নিয়ে আসছে সে কারণে এই চেলামার সাগরে বংশবৃদ্ধি কমে গেছে যার কারণে পেলাম আজ দিন দিন আরৎ গুলোতে কম উঠছে।সহায়তা করে। গ্রাসকার্প জলজ উদ্ভিদ খেয়ে পুকুর পরিষ্কার রাখে। এছাড়া কিছু মাছ অন্য মাছের মল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যেমন সাধারণ কার্প সিলভার কার্পের মল খায়। তাই জলজ বাস্ত্ততন্ত্রের (ecosystem) উন্নতি সাধনে মিশ্র মাছচাষ যথেষ্ট সহায়ক।
মিশ্র মাছচাষের আগে একত্রে চাষযোগ্য মাছের খাদ্যাভ্যাস ও চাষের পুকুরে লভ্য খাদ্যবস্ত্তর মজুদ, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অনুপাত ও ঘনত্ব জানা আবশ্যক। ময়মনসিংহের মৎস্যচাষ গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত সাত প্রজাতির মাছের মিশ্রচাষ সফল প্রমাণিত হয়েছে। সেগুলি হলো সিলভার কার্প, কাতলা, রুই, মৃগেল, গ্রাসকার্প, মিরর কার্প ও সরপুঁটি এবং মজুদের হার প্রতি একরে ৫-৭ সেমি লম্বা পোনা যথাক্রমে ১২০০, ৩০০, ৩০০, ৩০০, ৩০০, ৪০০ ও ১২০০।
সফল মিশ্র মাছচাষের কয়েকটি পূর্বশর্ত হলো উপযুক্ত ও সহবাসী প্রজাতি নির্বাচন, পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়, পোনার উপযুক্ত সংখ্যা ও আকার, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য, সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ, রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগ, মাছ ধরা ও বিপণন প্রভৃতি। বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন মাছই চাষ করা প্রয়োজন। দেশী বড় জাতের কার্প (রুই/কাতলা) ও চীনা কার্পের মিশ্রচাষের জন্য কমপক্ষে ০.২ একর আয়তনের পুকুর দরকার। পক্ষান্তরে ০.২ একরের চেয়ে ছোট পুকুরে মলা, পুঁটি, চাপিলা, ঢেলা, খলিসার মিশ্রচাষ লাভজনক।  [মো. গোলাম মোস্তফা]
মাছের একক চাষ (Monoculture of fish)  বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনায় কোন জলাশয়ে এক প্রজাতির মাছচাষ। সাধারণত উদ্ভিদভোজী অথবা মাংসাশী মাছ যেমন ক্যাটফিশ, কার্প বা তেলাপিয়া একক চাষের জন্য নির্বাচিত হয়। এতে জলাশয়ের স্বাভাবিক খাদ্যবস্ত্ত ও প্রদত্ত সম্পূরক খাদ্যের সদ্ব্যবহার হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ছোট পুকুর, ডোবা, খাল, নিচু খাদের মতো অসংখ্য জলাশয় রয়েছে, যেগুলি বড় আকারের নানা জাতের মাছের মিশ্রচাষের অনুপোযোগী এবং ৫-৬ মাস পানি থাকার দরুন এগুলি সংক্ষিপ্ত জীবনচক্রের ছোট ছোট মাছ মলা, ঢেলা, চাপিলা, খলিসা, পুঁটি, টেংরা, পাবদা ইত্যাদির একক চাষে ব্যবহার করার উপযোগী।  [মো. গোলাম মোস্তফা]
একত্রে ধান ও মাছচাষ (paddy-cum fish culture)  পানিতে নিমজ্জিত ধানের ক্ষেতকে মাছ চাষের জন্য দুভাবে ব্যবহার করা যায় ক্ষেতকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা; এক্ষেত্রে পোনা ছাড়া হয় না, এটি কেবল ক্ষেতে প্রবেশ করা মাছ ধরার একটি পদ্ধতি অন্য পদ্ধতিতে ক্ষেতকে পুকুরের মতো ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে পোনা ছেড়ে মাছের খামার গড়ে তোলা হয়। অন্যদিকে, ধান চাষের ক্ষেতে মাছ চাষ হতে পারে প্রতি বছর একবার ধান ও একবার মাছ আহরণ করে; ধানের চারা রোপণ ও পাকা ধান তোলার মধ্যবর্তী সময়ে একবার মাছ আহরণ করা; এবং ধান ও মাছ একত্রে চাষ করা। অবশ্য সব ক্ষেত্রে মাছকে গৌণ ফসল হিসেবে গণ্য করা হয়। ধান ক্ষেতে চিংড়ি (penaeid shrimp) চাষ বাংলাদেশের সনাতন পুরনো পদ্ধতি। এক্ষেত্রে ‘ঘের’ অর্থাৎ বেড় দিয়ে একটি এলাকা প্রথম ঘিরে ফেলা হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরা ও তদসংলগ্ন এলাকায় জোয়ার-ভাটার নদীর তীর বরাবর লোনা পানি প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য মাটির তৈরি নিচু ঐতিহ্যবাহী বাঁধ বা বেড়ি নির্মাণ করার প্রচলন আছে। এখানে কাঠ নির্মিত ছোট স্লুইস গেটের সাহায্যে ঘেরে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত স্লুইস গেট উন্মুক্ত রাখা হয় যাতে নদী থেকে বাগদা চিংড়ি ও মাছ পোনাসহ ঈষৎলোনা পানির ঘেরে ঢুকতে পারে। এভাবে আটকা পড়া চিংড়ি ও মাছ আহরণ উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত ঘেরের ভিতরে বাড়তে থাকে।
একত্রে ধান ও মাছচাষ
মৌসুমের সময় (জুন-সেপ্টেম্বর) বৃষ্টির পানি ঘেরের লোনাপানির ঘনত্ব হ্রাস করে। নির্দিষ্ট সময় পর পর স্লুইস গেট খুলে ঘের থেকে পানি বের করে দেওয়া হয়। মৌসুমি বৃষ্টি ও বার বার স্লুইস গেট খুলে পানি বের করে দেওয়াতে ঘেরের পানির লবণাক্ততা হ্রাস পায় এবং ভিতরের জমি ধান চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। কৃষকরা তখন জুলাইয়ের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধানের সঙ্গে মাছ উৎপাদন করে। ঘেরের ভিতরে অপেক্ষাকৃত গভীর খাদে পানি জমা থাকে, যেখানে বিভিন্ন মাছ ও চিংড়ির পোনা আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ঘেরে বৃষ্টির পানি জমানো হয় এবং ক্ষেতের লবণাক্ততা হ্রাসের লক্ষ্যে তা অপসারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাগদা চিংড়ি ও মাছের বাড়ন্ত পোনার আশ্রয়স্থল গভীর খাদের পানিও ক্রমে লবণাক্ততা হারায়।
একই সঙ্গে রোপা আমন ধানের চারা লাগানোর জন্য জমি তৈরি করা হয়। লোনাপানির চিংড়ির খামারে ব্যবহূত জমি সাধারণত লাঙল দিয়ে চাষ করা হয় না। রোপা আমনের চারা লাগানোর পর ঘেরের ভিতরে ৬০-১০০ সেমি বৃষ্টির পানি জমানো হয়। এ সময় চিংড়ি ও মাছ খাদের পানিতে বাড়তে থাকে। সেসঙ্গে প্লাবিত জমিতে স্বাদুপানির চিংড়ির লার্ভা, রুই-কাতলাজাতীয় মাছ ও তেলাপিয়ার পোনা ছাড়া হয়। এভাবে মৌসুমের ধান ও মাছ একত্রে চাষ করা হয়। মাছ ধরার সময় সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে, চিংড়ি ধরা হয় অক্টোবর-নভেম্বরের কাছাকাছি সময়ে। মাছ ও চিংড়ি ধরা এবং ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার পর ডিসেম্বরে লোনা পানিতে চিংড়ি চাষের জন্য পুনরায় ঘের নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঘেরে প্রাকৃতিক উপায়ে বাগদা চিংড়ি সংগ্রহের যে রেওয়াজ প্রচলিত ছিল, তার বদলে এখন ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট জাতের বাগদা চিংড়ির পোনা কৃত্রিম উপায়ে সংগ্রহের প্রয়াস গ্রহণ করা হচ্ছে।  [নূরুদ্দিন মাহমুদ]
ঘেরে মাছ চাষ (Pen culture)  ছোট ঘেরে মাছ চাষ করার পদ্ধতি। মাছ চাষের ঘেরের বৈশিষ্ট্য হলো, এর চতুষ্পার্শ্বে কাঠের খুঁটিতে জাল বেঁধে বেড়ার সৃষ্টি করা হয় এবং এর তলায় থাকে মাটি। ১৯২০ সালের দিকে জাপানের অভ্যন্তরীণ সামুদ্রিক এলাকায় ঘেরে মাছ চাষ প্রবর্তিত হয়। চীন ১৯৫০ সালের দিকে স্বাদুপানির হ্রদে কার্প বা রুই-কাতলাজাতীয় মাছ পালনের জন্য এই পদ্ধতি গ্রহণ করে এবং পরে ১৯৬৮ ও ১৯৭০-এর মধ্যে ফিলিপাইনে মিল্ক ফিশ (Milk fish, Chanos chanos) পালনের জন্য ঘেরে মাছ চাষ প্রবর্তিত হয়। ঘেরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ একটি নতুন প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের জন্য ঘের ও খাঁচায় মাছ চাষের ধারণা ১৯৭৭ সালে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮১-১৯৮৪ সালের মধ্যে মাত্র কয়েকটি অঞ্চলে, যেমন বাহাদুরপুর বাওড়, নবগঙ্গা নদী, ঝিনাইদহের সাগন্না বাঁওড় এবং ঢাকা মহানগরের ধানমন্ডি ও গুলশান হ্রদে পরীক্ষামূলকভাবে ঘেরে মাছ চাষের কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। সাগন্না বাওড়ে ০.৫ হেক্টর আয়তনের ঘেরে সম্পূরক খাদ্য যোগান দিয়ে কার্প জাতীয় মাছগুলিকে একত্রে চাষ করে আট মাসে ১,৮৯০ কিলোগ্রাম মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সিলভার কাপের্র ওজন হয় প্রায় ৩৫০ গ্রাম, যা কাতলা, রুই ও মৃগেলের ওজনের চেয়ে বেশ
১৯৮১ সালে ধানমন্ডি  হ্রদে ০.২৫ হেক্টর এলাকায় ১০০  ২৫ মিটার আয়তনের ঘেরে হেক্টর প্রতি ৩৮,৬০০টি ৪.০-৫.৬ গ্রাম আকারের মাছের ঘনত্বে পাঁচ প্রজাতির কার্প, যথা সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, কাতলা, রুই ও মৃগেল ছাড়া হয়। সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করে ৬ মাসের মধ্যে মাছের গড় ওজন দাঁড়ায় ১৮৬ গ্রাম এবং সর্বমোট ১৫,১৯৫ কিলোগ্রাম মাছ আহরিত হয়। দেখা গেছে যে, পলিইথাইলিনের গিঁটহীন জাল, বাঁশের বেড়া, বাঁশের খুঁটি, নাইলন রশি ইত্যাদি সামগ্রী ঘের নির্মাণের জন্য উপযোগী। প্রতি একরে ২০,০০০ মাছের ঘনত্বে রুই-কাতলাজাতীয় মাছ এবং চীনা কার্পের পোনা একত্রে চাষ উপযোগী ও লাভজনক বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঘেরে কার্পের সঙ্গে Macrobrachium rosenbergii, Oreochromis species, Pangasius sutchi ও Pangasius pangasius মাছের সম্মিলিত চাষও যথার্থ দেখা গেছে। এক্ষেত্রে ৩ মাস বয়সের ১০ সেন্টিমিটার আকারের পোনা ব্যবহার উত্তম। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেচ সুবিধা সম্পন্ন ০.৫০ হেক্টরের একটি ঘেরে একবার মাছ চাষে মোট ৭০,০০০ টাকা (প্রায় ১৩০০ মার্কিন ডলার) মুনাফা লাভ করা সম্ভব হয়। [খান কামাল উদ্দিন আহমেদ]
আর্টেমিয়ার চাষ (Artemia culture)  চিংড়ির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য আর্টেমিয়ার (Artemia) সিস্ট গবেষণাগারের পরিবেশে উৎপাদন প্রক্রিয়া। আর্টেমিয়া হচ্ছে প্রায় ১২মিমি দীর্ঘ প্লাঙ্কটনিক ক্রাসটেসিয়ান (planktonic crustacean), যা অতি লবণাক্ত পানির জীব। পৃথিবীব্যাপী শেলফিশ ও ফিনফিশের হ্যাচারিতে এর সিস্ট আহার্য হিসেবে ব্যবহূত হয়, কেননা এতে পালন পুকুরের পানি দূষিত হয় না। আর্টেমিয়ার সিস্ট কয়েক বছর অবাত অবস্থায় মজুদ রাখা যায় এবং প্রয়োজনের সময় সমুদ্রের পানিতে ছেড়ে দিলে অতি সহজে নপ্লিয়াস-এ পরিণত হয়। কয়েকটি দেশ বাণিজ্যিকভাবে এই সিস্ট উৎপাদন করে এবং আবদ্ধ পাত্রে বিপণন করে।
সারা পৃথিবীতে নানা ধরনের অতি লবণাক্ত আবাসস্থলে যেমন উপকূলীয় নুন-কুয়া ও অভ্যন্তরীণ লবণহ্রদে আর্টেমিয়া দেখা যায়। কিন্তু আর্টেমিয়া সর্বত্র পাওয়া যায় না, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে আর্টেমিয়া জন্মায় না। এজন্য প্রয়োজন পানির পর্যাপ্ত লবণাক্ততা (অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০০ পিপিটি-র বেশি), যা বিভিন্ন শিকারি জীবকে দূরে রাখে এবং পানির অনুকূল তাপমাত্রা (আর্টেমিয়ার প্রজনন ও বিকাশের জন্য), যা বাংলাদেশে নেই। প্রকৃতপক্ষে আর্টেমিয়ার সিস্ট বিস্তারের জন্য বাতাস, জলচর পাখি ও মানুষের মতো সক্রিয় বাহক দরকার। অনুকূল পরিবেশে অত্যন্ত ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়ে আবাসস্থল এদের অজস্র কলোনিতে ভরে ওঠে। ডিম্ব-জরায়ুজ (ovoviviparously) পদ্ধতিতে প্রজননের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী-আর্টেমিয়া ৪ দিন পর পর ২০০-৩০০ অবাধ সন্তরণশীল নপ্লিয়াস উৎপন্ন করে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে নপ্লিয়াস প্রাপ্তবয়স্ক আর্টেমিয়ায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে যেহেতু আর্টেমিয়া জন্মায় না, সেহেতু বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য কৃত্রিম চাষই একমাত্র বিকল্প। বাংলাদেশের ৫-৬ মাস (নভেম্বর-এপ্রিল) শুষ্ক মৌসুম। এছাড়া এদেশে রয়েছে ১৭,০০০ হেক্টরের অস্থায়ী নুন-কুয়া (saltpan), যার একাংশে লবণ ও আর্টেমিয়া সমন্বিতভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। মাটির পাত্রের অত্যধিক লোনাপানিতেও এরা বাঁচতে পারে; উদ্ভিদ-প্লাঙ্কটন, জৈব বর্জ্য এবং চালের কুড়ার মতো কম দামি খাবার খেয়ে থাকে। যথাযথ জীবতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে লবণ উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পুকুরে আর্টেমিয়া সন্তোষজনকভাবে চাষ করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ১৯৭৬ সাল থেকে আর্টেমিয়া চাষের ওপর গবেষণা চলছে এবং ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় একটি নুন-কুয়ায় প্রথমবারের মতো আর্টেমিয়ার সিস্ট উৎপাদন সফল হয়েছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশে বিভিন্ন ভৌগোলিক স্ট্রেইন নিয়ে পরীক্ষাতেও উৎসাহজনক ফল পাওয়া গেছে।  [নূরউদ্দিন মাহমুদ]
ও কাঁকড়াজাতীয় প্রাণিসহ)। খামারগুলির কর্মকান্ড বাড়ছে এবং বাংলাদেশের সার্বিক মৎস্য উন্নয়ন প্রয়াসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব খামারে সামুদ্রিক ও মোহনার চিংড়ি, মাছ ও কাঁকড়া উৎপন্ন হয়। বাগদা চিংড়িই প্রধান লক্ষ্য, আনুষঙ্গিক হিসেবে রয়েছে কতিপয় প্রজাতির মাছ, নানা জাতের চিংড়ি ও কাঁকড়া। উপকূলীয় জেলাগুলির মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও কক্সবাজারে স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ হয়। অবশ্য উপকূলীয় বিস্তৃত অঞ্চল স্বল্পলোনাপানির মৎস্যচাষের আওতাধীন, যা প্রধানত চিংড়িচাষভিত্তিক। সত্তরের দশকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ শুরু হলেও চাষপদ্ধতি ছিল একেবারে সেকেলে। আশির দশকের গোড়া থেকে বাংলাদেশ সরকার সনাতন মাছচাষ পদ্ধতির উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ভিতরের নিচু জমির জোয়ার-ভাটা এলাকায় প্রধানত স্বল্পলোনাপানির মৎস্যচাষ চলে। মূলত লোনাপানির কবল থেকে কৃষিজমি রক্ষার জন্য এসব বাঁধ নির্মিত হয়েছিল। অনেক জায়গায় কৃষকেরা নিজেরাই কৃষি ও মৎস্যচাষ উভয় উদ্দেশ্যে নদীর পাড় বরাবর মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছে। মৎস্যচাষের আওতাধীন মোট ২,৯২,৩৭৮ হেক্টর জমির প্রায় ৪৮% স্বল্পলোনাপানির জমি।
১৯৯৩-৯৪ সালে মৎস্য উৎপাদনের মোট পরিমাণ ছিল ১০ লক্ষ মে টনের কিছু বেশি। যার ২৪% ছিল কৃত্রিম মৎস্যচাষ থেকে। স্বল্পলোনাপানির খামারগুলি একত্রে চিংড়ি ও মাছ উৎপাদন করে প্রায় ৩৯,৪৭৭ মে টন, যার মধ্যে চিংড়ি প্রায় ২৫,০০০ মে টন (হেক্টরপ্রতি ২০৪ কেজি)। মোট মৎস্য উৎপাদনে স্বল্পলোনাপানির মৎস্যচাষের অবদান ছিল ওজনে প্রায় ১৫% এবং মূল্যে ৩৮.৫%। স্বল্পলোনাপানির চিংড়ি হিসেবে চাষকৃত মোট চিংড়ির পরিমাণ ছিল ওজনে প্রায় ৮০% এবং মূল্যে প্রায় ৮৪%। উৎপন্ন সর্বমোট চিংড়ির (১,০০,৫৩৮ মে টন) মধ্যে স্বল্পলোনাপানির চিংড়ি ছিল ওজনে প্রায় ২৫% এবং মূল্যে প্রায় ৫০%। তৈরি পোশাক ও পাটের পরই চিংড়ি বাংলাদেশের তৃতীয় বেশি বিদেশী মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য। ধারণা করা হয় জোয়ার-ভাটাবিধৌত ২,২০০,০০০ হেক্টর জমি স্বল্প-লোনাপানির চিংড়িচাষের উপযোগী।
বাংলাদেশে স্বল্পলোনাপানিতে নিবিড় চিংড়িচাষ না হলেও দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে ব্যাপক চিংড়িচাষ চলছে। চাষীরা উপকূলীয় নিচু জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ ও চিংড়ি সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে। কোথাও কোথাও ধানচাষ ও লবণ উৎপাদনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে, আবার কোথাও এককভাবে চিংড়িচাষ হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে লবণাক্ততার পরিমাণ দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। ফলে দুই অঞ্চলের চিংড়িখামারের চিংড়ি ও চিংড়ির আহরণপদ্ধতি ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে চিংড়ি/মাছের এককচাষ বা চিংড়ি/মাছ ও লবণের যৌথচাষ দেখা যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই ধরনের পদ্ধতিতে চাষ হয়, যেমন যৌথ চিংড়ি/মাছ ও ধান চাষ এবং চিংড়ি/মাছের এককচাষ। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বাগদা চিংড়ি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রধানত গলদা ও বাগদা উভয় চিংড়িরই চাষ হয়ে থাকে।
অয়েস্টার চাষ (Oyster fishery) অগভীর][ইউসুফ উষ্ণ-পানির তলদেশে অয়েস্টার ও খাবারযোগ্য ঝিনুকের চাষ। অয়েস্টার ছাড়া এই চাষের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ঝিনুকজাতীয় প্রাণী হলো মাসেল (Mussel), ক্ল্যাম (Clam) ও স্ক্যালোপ (Scallop)।
অয়েস্টার চাষ
ছাঁকন পদ্ধতিতে খাদ্য সংগ্রহকারী (filter feeder) এসব প্রাণীর জীবনচক্র প্রায় একই ধরনের এবং জীবনচক্রের প্রথম দিকের পর্যায়সমূহ প্লাঙ্কটনিক।ডিমের নিষেক হয় দেহের বাইরে এবং প্লাঙ্কটনিক লার্ভা আটকে থাকার জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হয়। চাষের জন্য ব্যবহূত খুঁটিগুলি উপকূলের অগভীর পানির স্বল্পঢালু তলদেশে স্থাপন করা হয়। প্রাকৃতিক প্রজননভূমি থেকে অয়েস্টারের ডিম সংগ্রহ করে চাষের জায়গায় স্থানান্তরিত করলে সেগুলি সেখানকার আশ্রয় অাঁকড়ে থাকে এবং ৭-৮ মাস পর অয়েস্টার ৪-৭ সেমি হলে বাজারজাত করা যায়।
বাংলাদেশে Ostrea ও Crassostrea-এর কতিপয় প্রজাতি রয়েছে এবং এগুলির চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল উপাদানই এখানে বিদ্যমান। উঁচু জোয়ারের ব্যাপ্তি, জোয়ার-ভাটার পর্যাপ্ত জলস্রোত, দোঅাঁশ কাদামাটির নিচু সমতল, ম্যানগ্রোভ বনের উপকূল ভাগ, দূষণমুক্ত অঞ্চল, লবণাক্ততার সহনক্ষম মাত্রা ও বিদ্যমান পর্যাপ্ত প্ল্যাঙ্কটনসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার অগভীর পানিতে গোঁজ, খুঁটি, তাক ফেলে বা অপেক্ষাকৃত গভীর পানিতে ভাসন্ত ভেলা ও লম্বা রশি ব্যবহার করে স্বল্পপুঁজি খাটিয়ে অয়েস্টার চাষ সম্ভব। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ না হলেও বাংলাদেশের কোন কোন এলাকার স্বাদুপানির ঝিনুকজাত মুক্তা নিয়মিতভাবে আহরণ করা হয়ে থাকে।
স্বল্পলোনাপানির আহরণ  স্বল্পলোনাপানির মৎস্যসম্পদকে মোহনার মৎস্যসম্পদও বলা হয়। পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপে অবস্থিত বিধায় বাংলাদেশের স্বল্পলোনাপানির অঞ্চলও বেশ ব্যাপক। স্বল্পলোনাপানির মৎস্যসম্পদ দু’ধরনের; উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মৎস্যসম্পদ। মাছ আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, খাদ্য সরবরাহ ও উপকূলীয় গ্রামীণ এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা সুস্থিত রাখার নিরিখে জাতীয় উন্নয়নে এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্বল্পলোনাপানির অঞ্চল থেকে সংগৃহীত মৎস্যসম্পদের একটা বড় অংশ হিমায়িত করে রপ্তানি হয়।
স্বল্পলোনাপানির কাঁকড়া
বাংলাদেশে উন্মুক্ত স্বল্পলোনাপানি থেকে আহরিত মাছকে সাধারণত সামুদ্রিক মাছের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্বল্পলোনাপানিতেই বাগদা চিংড়ির চাষ হয়। এটি বাংলাদেশের হিমায়িত খাদ্য হিসেবে প্রধান রপ্তানি পণ্য। এদেশে স্বল্পলোনাপানির মাছ সমুদ্র থেকে আহরিত মাছের একাংশ হলেও বহু সামুদ্রিক ও স্বাদুপানির মৎস্য প্রজাতির প্রজনন ও লালনভূমি হিসেবে এ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত গলদা নামে পরিচিত স্বাদুপানির গলদা চিংড়ি প্রজননের জন্য স্বাদুপানির আবাস থেকে স্বল্পলোনাপানিতে নেমে আসে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চিংড়ি সেখানে লার্ভা পর্যায়ে পৌঁছায়। এ আবাসে জীবনের প্রাথমিক পর্যায়গুলি অতিক্রম করে গলদা চিংড়ি স্বাদুপানিতে ফিরে আসে। একইভাবে অনেক সামুদ্রিক প্রজাতি স্বল্পলোনাপানির অঞ্চলে জীবনের একটি অংশ কাটায় এবং বাড়ন্ত বয়সে উন্মুক্ত সমুদ্রে ফেরে।
উপকূলীয় নদীসমূহ ও প্রাকৃতিক নিম্নভূমি এবং ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের প্রায় ২৫,০০০ বর্গ কিমি এলাকা স্বল্পলোনাপানির আওতাভুক্ত। বর্তমানে ম্যানগ্রোভ বনে রয়েছে প্রায় ৭,০০,০০০ হেক্টর জমি এবং বাকিটা সাধারণত বাঁধ, বেড়িবাঁধ দিয়ে ঘিরে কৃষি জমিতে পরিণত করা হয়েছে। উন্মুক্ত স্বল্পলোনাপানি এলাকা  থেকে মৎস্যসম্পদ আহরণ করে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়, কিন্তু উপকূলীয় স্বল্পলোনাপানির এলাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন। স্বল্পলোনাপানির মোহনা, নদীমুখ ও খালগুলি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের কর্তৃত্বাধীন। হিসাব মতে, বাংলাদেশে উৎপন্ন মোট মাছের ১৯% সমুদ্র থেকে আসে। স্বল্পলোনাপানি থেকে আসে মোট সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদনের ১০-১৫%। উপরন্তু, স্বল্পলোনাপানির অঞ্চল থেকে বছরে মোটামুটি ৩০০-৩৫০ কোটি লার্ভা পর্যায়ের বাগদা চিংড়ির (Peneus monodon) সরবরাহ আসে। এক হিসেব অনুযায়ী ১,৫০,০০০ হেক্টর উপকূলীয় এলাকা থেকে বছরে লক্ষ্যমাত্রার বাইরে প্রায় ৭০,০০০ মে টন বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাঁকড়া ও ছোট চিংড়ি উৎপন্ন হয়।
স্বল্পলোনাপানির মৎস্যসম্পদ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত স্থানীয় ও পরিযায়ী। স্থানীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে খল্লা, Threadfins, Saienidaes, Perches, ফিতামাছ, Clupeids, Catfish, Bombay Duck, Camila ইত্যাদি। এছাড়া Penaeidae গোত্রভুক্ত অনেক চিংড়িও স্থানীয়। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ও বিদেশে রপ্তানির জন্য ফিনফিশ ও শেলফিশ উৎপাদন এবং বাস্ত্তসংস্থানিক ভারসাম্য রক্ষার নিরিখে বাংলাদেশের স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ একটি গোটা পদ্ধতি হিসেবে এখনও বিকশিত হয়নি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও রপ্তানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে অধিক উৎপাদনের জন্য জমি ও জলাশয় ব্যবহারের রেওয়াজ অত্যন্ত প্রাচীন।
সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ  সমুদ্রের মাছ ও সমুদ্রজাত অন্যান্য বস্ত্ত আহরণ ও এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে প্রাচীনকাল থেকেই। পৃথিবীর মৎস্যসম্পদ মূলত সামুদ্রিক। সর্বমোট মৎস্য আহরণের ৯৭ শতাংশের বেশি সামুদ্রিক মাছ, স্বাদুপানির মাছ মাত্র ২.৫%। অবশ্য, বাংলাদেশে প্রায় ৮০% স্বাদুপানির এবং অবশিষ্ট অংশ সামুদ্রিক ও স্বল্পলোনাপানির মাছ। বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বিগত ৪০ বছরে সামুদ্রিক মৎস্যশিল্প অনেক পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশে এখনও তা সনাতন মৎস্যশিল্প হিসেবেই রয়ে গেছে। এখানে বিগত চার দশকে কেবল মাছ ধরার সনাতন নৌকাকে আরও দ্রুতগতিসম্পন্ন করার জন্য ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক মাছশিকার উপকূলীয় মাছ ধরার অবস্থাতেই রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে গুটিকয়েক প্রজাতির মাছ ধরাই লক্ষ্য, ফলে প্রায়শই তা অতিসংগ্রহে পর্যবসিত হয়।
বাংলাদেশের জলসীমা উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, আবার রাষ্ট্রীয় জলভাগ থেকে একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল ৩২০ নটিক্যাল কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। কাজেই, বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ উপযোগী অঞ্চলের আয়তন মোটামুটি প্রায় ২,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার, যা দেশের সর্বমোট আয়তনের অধিক। সামুদ্রিক মৎস্য দুই শ্রেণীতে বিভাজ্য, পানির উপরিভাগের (pelagic) ও তলদেশীয় (demersal)। বাংলাদেশের পেলাজিক মাছের মধ্যে রয়েছে পানির উপরের স্তরে সর্বক্ষণ সাঁতার কেটে বেড়ানো প্লাঙ্কটনভুক মাছ। এগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ইলিশ, রূপচান্দা, ছুরিমাছ, ম্যাকারেল, লইট্টা, খল্লা, লাখুয়া, Sardine, pelagic shark, sword fish, কালিমা, Bonito, Skipjack, Threadfin, Smelt, ফাঁস্যা, Indian anchovy, করাতি চেলা, Dorab Herring, Indian Scad, Bone Fish ইত্যাদি এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাছ। হাঙ্গরের ছোট একটি জাত ডগফিশও পাওয়া যায়।
সামুদ্রিক মৎস্য
সমুদ্রের তলদেশে বা তলদেশের কাছাকাছি বসবাসকারী মাছকে তলদেশীয় মাছ বলা হয়। তলদেশীয় অধিকাংশ মাছ মাংসাশী বা আবর্জনাভুক। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৪৪২ প্রজাতির মাছ থাকলেও মাত্র ২০ প্রজাতির মাছ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আহরিত হয়। তলদেশীয় মাছের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ Jaw fish, Croaker, Catfish, Flatfish, কালিমা, লাল দাতিনা, Snapper, Goat Fish, Crab eater, Rabbit Fish, Rock Fish, Seabass, Grouper, Silver Bream, ছুরিমাছ ও তলদেশীয় হাঙ্গর। অন্যদিকে, তলদেশীয় মৎস্যসম্পদের মধ্যে কয়েক প্রজাতির কাঁকড়া ও প্রায় ১০ প্রজাতির চিংড়িও রয়েছে। Gastropoda শ্রেণীভুক্ত শামুকজাতীয় প্রাণী অন্যত্র খাদ্য হিসেবে সমাদৃত হলেও বাংলাদেশে ভোজ্য নয় বলে বাণিজ্যিকভাবে আহরণ করা হয় না। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫ লক্ষ মে টন সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি ধরা হয়। সাধারণ বা যন্ত্রচালিত নৌকায় স্থায়ী ভাসমান ফাঁসজাল, স্থায়ী থলেজাল ও লম্বা সুতার বড়শিতেই অধিকাংশ মাছ ধরা পড়ে।
বঙ্গোপসাগর উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই উপসাগরে সমুদ্রস্রোত প্রবেশ না করার ফলে এতে পানির ভরণ-নিষ্কাশনের (upwelling) মাধ্যমে পুষ্টি পুনরাবর্তন (nutrient recycling) তেমন সম্পাদিত হয় না। অবশ্য গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার সম্মিলিত স্রোতবাহিত বিশাল পরিমাণ স্বাদুপানি বঙ্গোপসাগরে এসে মেশে। এই নদীগুলি ভূ-পৃষ্ঠ বিধৌত জৈব ও অজৈব পুষ্টি উপাদান বয়ে আনে এবং স্বাদুপানি ও লোনাপানি মিশিয়ে পৃথিবীর অন্যতম বিপুল একটি স্বল্পলোনাপানির মাছের আবাসস্থল সৃষ্টি করেছে। উপরন্তু, বঙ্গোপসাগরে বিপুল পরিমাণ স্বাদুপানি মেশার ফলে মাছের জন্য এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে ডিম পাড়ার জন্য সমুদ্রের গভীর পানির মাছ এখানকার অগভীর পানিতে ছুটে আসে। ইলিশ সামুদ্রিক মাছ, জীবনের বেশির ভাগ বঙ্গোপসাগরেই কাটায়, কিন্তু ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে এবং অল্পবয়সী ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়।
সামুদ্রিক চিংড়ি আহরণ বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার হেক্টর এলাকায় চিংড়ির চাষ হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের ১০-১০০০ মিটার গভীর অর্থনৈতিক জলসীমা এলাকার (৭৬,৮০০ বর্গ কিলোমিটার) চারটি মৎস্য অঞ্চল- দক্ষিণ অঞ্চল, মধ্য অঞ্চল, Swatch of No Ground ও দক্ষিণ অঞ্চলের দক্ষিণ এলাকার মৎস্যসম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলে ১৯ প্রজাতির সামুদ্রিক চিংড়ি রয়েছে, তন্মধ্যে কোলা বা বাঘা চিংড়ি (Penaeus merguiensis), বাগদা চিংড়ি (P. monodon), চাপড়া বা চাপদা চিংড়ি (P. indicus), বাঘতারা চিংড়ি (P. semisulcatus), হরিণা চিংড়ি (Metapenaeus monoceros) এবং হন্নি চিংড়ি (M. brevicornis) বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সামুদ্রিক চিংড়ি
গলদা চিংড়ি স্বাদুপানির চিংড়ি হলেও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ডিম ছাড়ে এবং পোনাগুলি সেখানেই বড় হয়। উষ্ণমন্ডলীয় উষ্ণ জলবায়ু, ১২-৩৯ ppt লবণাক্ততা ও ৪.০-৪.৮ ppm অক্সিজেনসহ খাদ্যসমৃদ্ধ পানি চিংড়ির দ্রুতবৃদ্ধির উপযোগী। সাধারণ নৌকা (প্রায় ২০,০০০) ও মোটরচালিত নৌকা (প্রায় ১২,৭০০) থলেজাল, ট্রামেল জাল, বেলাভূমির বেড়জাল, ফাঁসজাল, দীর্ঘ লাইন বড়শি ইত্যাদি দিয়ে বাংলাদেশের মহীসোপানে (৬৬,৪৪০ বর্গ কিমি) মাছ ধরে। জাল দিয়ে ১০-৫০ মিটার গভীরে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরা হয়।

জন্মভূমি ডেস্ক January 8, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article সাতক্ষীরায় তিন বছরে সাড়ে ৭৭ হাজার বাগদা চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে
Next Article নারীরা রাজনীতি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান খুঁজে নিচ্ছে
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে সাংবাদিক মনিরের উপর হামলার ঘটনায় যুবদলের ৪ নেতা বহিস্কার

By জন্মভূমি ডেস্ক 35 minutes ago
ঝিনাইদাহ

মহেশপুর সীমান্তে কোটি টাকা মুল্যের মাদক ও ডিএনএ টেষ্ট কিট উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 55 minutes ago
ঝিনাইদাহ

মহেশপুরে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ

By জন্মভূমি ডেস্ক 56 minutes ago

দিনপঞ্জি

March 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
« Feb    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে সাংবাদিক মনিরের উপর হামলার ঘটনায় যুবদলের ৪ নেতা বহিস্কার

By জন্মভূমি ডেস্ক 35 minutes ago
সাতক্ষীরা

তালায় মাদকাসক্ত ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন পিতা

By জন্মভূমি ডেস্ক 3 hours ago
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

নিরাপদ সড়ক সবার জন্য প্রযোজ্য

By জন্মভূমি ডেস্ক 11 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?