
শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা : বাড়ি থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে গন্তব্যের দিকে ছুটছিলাম। প্রতিদিনের মতো ব্যস্ততা, তাড়াহুড়ো, চোখ সামনে। কিন্তু হঠাৎই চোখে পড়লো এক ঝাঁঝালো দৃশ্য। রবিবার (৮ জানুয়ারি) গোধূলি বিকেলে ঘড়ির কাঁটা তখন ৫টা বেজে ৩১ মিনিট। পশ্চিমাকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার প্রস্তুতি, তার শেষ আলো গাছের ডালে পড়ে যেন ফুলের ঝলকানিতে পুরো এলাকা আলোকিত করে রেখেছে। এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই ব্রেকে চাপ পড়ে গেল। বলছি পাইকগাছা পৌর সদরের কড়ুলী খেয়াঘাট সংলগ্ন প্রধান সড়কের কথা—সড়কের দু’পাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি সজিনা গাছ, আর প্রতিটি গাছ যেন সাদা চাদরে ঢাকা। মুহূর্তের মধ্যে পকেট থেকে মোবাইল বের করে ছবি তুলতে শুরু করলাম। এমন দৃশ্য প্রতিবেদন না করে থাকা যায়?
কাছে গিয়ে দেখা যায়, শুধু দূর থেকে নয়—নজর কাড়ে কাছ থেকেও। ডালপালার গায়ে থোকায় থোকায় সাদা ও হালকা হলুদ রঙের ছোট ছোট ফুল, গোধূলির নরম আলোয় ঝিলমিল করছে। হালকা বাতাসে দুলছে ফুলগুলো, আর সেই দোলার ছন্দে ব্যস্ত সড়কটাও যেন কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হয়ে আসে। এ সময় পথচারীদের কয়েকজনকে থামতে দেখা যায়—কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন, কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন মুহূর্তটা ধরে রাখতে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর এই সময় সজিনা গাছে ফুল আসে। তবে এ বছর ফুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। অনেক গাছে একসঙ্গে এত ফুল ফুটেছে যে দূর থেকে দেখলে মনে হয় পুরো গাছটাই সাদা হয়ে গেছে। কড়ুলী খেয়াঘাট এলাকার এক দোকানদার বলেন, “সকাল থেকে দেখি মানুষ থেমে থেমে তাকাচ্ছে। ব্যস্ত রাস্তার মাঝেও এমন দৃশ্য মনটা ভালো করে দেয়।”
সজিনা গাছ গ্রামবাংলায় কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, উপকারিতার জন্যও পরিচিত। এর পাতা, ফুল ও ডাটা (শুঁটি)—সবই রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসকদের মতে, সজিনার ডাটা পুষ্টিকর সবজি হিসেবে পরিচিত। এতে আঁশ ও কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন-খনিজ উপাদান থাকে, যা হজমে সহায়তা করে এবং দৈনন্দিন পুষ্টি জোগাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়—পরিমিতভাবে খাওয়াই ভালো। কম তেলে রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ বেশি বজায় থাকে এবং শাকসবজির সঙ্গে খাদ্যতালিকায় রাখলে পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়ে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, এমন দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতি তার নিয়মে রঙ ছড়ায়। একটু থামলেই চোখে পড়ে চারপাশের সৌন্দর্য। কড়ুলী খেয়াঘাটের সড়কে সজিনার ফুলে ভরা গাছগুলো সেই বার্তাই যেন নীরবে জানিয়ে দিল—দেখতে জানতে পারলেই, সৌন্দর্য ধরা দেয়।

