
যশোর অফিস : যশোর শহরতলীর পালবাড়ির গাজীর ঘাটরোডস্থ দারুল উলুম মহিলা কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তাসমি আফরিন (১৫) অপহরনের অভিযোগে আদালতে নিদের্শে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে আদালতের নিদের্শে সদর উপজেলার নওদাগ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে তারেক হোসেনের দায়ের করা এজাহারটি কোতয়ালি থানা কর্তৃপক্ষ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন। মামলায় আসামি করেন সদর উপজেলার নওদাগ্রামের তবিবরের ছেলে রাফি, রাফির পিতা তবিবর ও মাতা ফোটকি বেগম ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আসামি রফির পিতা তবিবর পুলিশ বিভাগে চাকরি করায় রাফি এলাকায় ঔধ্যত্বপূর্ণভাবে ঘোরাফেরা করে। এলাকার রাস্তার মোড়ে সর্বসময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের উত্যক্ত করে। তাসমি আফরিন পালবাড়ী গাজীরঘাট রোড দারুল উলুম মহিলা কওমী মাদ্রাসায় হেদায়া জামাতের ১০ম শ্রেনির আবাসিক ছাত্রী। তদের একই এলাকার বাড়ি হওয়ায় রাফি প্রায়ই উত্যক্ত করতো। বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতো, উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি-ধামকি দিতো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো। এ ব্যাপারে রাফির পিতা মাতা ও শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও তারা রাফিকে কোন প্রকার শাসন করেনি এবং কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমতাবস্থায় গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যার পর রাফি তার পিতা-মাতার প্ররোচনায় মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। কোতয়ালি থানায় অভিযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ গত ২১ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধার করে। গত ২২ জুন দুপুর আড়াইটার সময় দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার ছুটির সময় বাদির মেয়ে তাসমি আফরিনকে রাফিক তার পিতা ও মাতার সহযোগীতায় ফুসলিয়ে মোটরসাইকেল যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কোতয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় বাদি তারেক হোসেন গত ২৬ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ যশোর এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মাইনুল হকের আদালতে পিটিশন মামলা নং ১১৪/২৩ দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন।