
যশোর অফিস : গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা বাজারে বেপরোয়া গতির চলন্ত বাসের চাপায় ৭জন নিহতের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর মুন্সিপাড়ার আব্দুল মান্নান মুন্সির ছেলে ছোটন হোসেন রয়েল ডিলাক্স নাম বাসের (ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-৩৮৭৬) চালকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
এজাহারে ছোটন হোসেন উল্লেখ করেছেন, গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৬টার দিকে খাজুরা বাজার থেকে ইজিবাইক চালক ইমরান হোসেন মুন্নাকে সাথে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা যশোরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে খাজুরা বাজারে পৌছালে রয়েল ডিলাক্সের ওই বাস বেপরোয়া গতিতে এসে ইজিবাইকের সামনে এসে ধাক্কায় দেয়। এতে ইজিবাইকটি বাসের নিচে পড়ে যায়। এবং বাসটিও উল্টে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার তার ভাবি মাহিমা (৪৫), ভাতিজি সোনিয়া (২৫), ভাবির বোন ফাহিমা (৩৫), ফাহিমার মেয়ে জেবা (৭), ভাতিজির দুই ছেলে হাসান (৭) ও হোসাইন (৩), তার পুতনি ফাতিমা (৫) মারাত্মক জঘম হয়। এবং মাহিমা, ফাহিমা ও হাসান মারা যায়। আহত অবস্থায় জেবা, ইমরান, মুন্না, হোসাইন, ফাতিমা ও সোনিয়াকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জেবা, মুন্না, হোসাইন ও ইমরান মারা যায়। এবং সোনিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। তিনি ঘটনা শুনে সেখানে যান এবং বেপারোয়া গতির বাসের ধাক্কায় তার পরিবারের সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানতে পারেন। ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ বাসটি হেফাজতে নিয়েছে।
যশোর পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু জানিয়েছেন, লেবুতলায় যে ঘটনা ঘটেছে তার মার্মান্তিক ও হৃদয় বিদায়ক। এই ঘটনার সাথে বাস চালক জড়িত কি-না তা তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশকে সহযোগিতার জন্য বাস চালক মিজানুর রহমানকে তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হারুন অর রশিদ ফুলু, যশোর বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন, খাজুরা বাস মালিক সমিতির সভাপতি তারেক হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুর রহমান,শ্রমিক নেতা আবু হাসানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক নেতা মিঠু জানিয়েছেন, মহাসড়কে ভিন্ন গতির যানবাহন চলাচলের কারণে এই দুর্ঘটনায় ঘটছে। মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, কমিরন, আলমসাধু, থ্রি-হুইলারসহ নানা গতির যানবাহন চলাচল করে। ফলে রাস্তায় বাস, ট্রাক বা অন্য কোন দ্রত গতির যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। যশোরের শ্রমিক সংগঠন গুলো এর প্রতিবাদে নানা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। দাবি করা হয়েছে-ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরি করার। কিন্ত সে দাবি কখনো পুরন হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। এছাড়া মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করার। কিন্তু সে নির্দেশনাও পালন হচ্ছে না।
তিনি দাবি করেছেন, দুর্ঘটনা রোধে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে মহাসড়কে ছোট বা কম গতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা রোধকরা যাবে না।