
জন্মভূমি ডেস্ক : সাংবাদিক মামুন খানের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএমএ’র তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করল নিহতের স্বজনরা। তারা বলেন, বিএমএ কর্তৃপক্ষের কাছে শুধুমাত্র চিকিৎসকসহ কয়েকজনের পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা উপযাজক হয়ে শায়লার মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তৎপরতা দেখিয়েছেন। তারা এনেসথেসিয়ার সময় রোগীর কার্ডিয়াক এরেস্টের ব্যখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন-“ দুর্ভাগ্যজনকভাবে হার্ট চালু হতে দেরি হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন স্বল্পতায় যে ক্ষতি হয় তার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে রোগীর মৃত্যু হয়।” এই যুক্তির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা অভিযুক্ত ডাঃ সানজিদা হুদা সুইটি এবং ডাঃ দিলিপ কুমার কুন্ডুকে শায়লার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি দেবার চেষ্টা করেছেন। এটা মনগড়া একটা পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন। যার মাধ্যমে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবর করা-ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর দায়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে । যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আজ রোববার বেলা ১১টায় বিএমএ কার্যালয়ে বিএমএ’র প্রশাসনিক কর্তকর্তা রিপন বিশ^াসের নিকট বিএমএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবরে দেওয়া প্রত্যাখান পত্রটি তুলে দেন নিহতের স্বজনেরা। প্রত্যাখ্যান পত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, নিহতের স্বামী সাংবাদিক মামুন খান, সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, দৈনিক খবর’র ব্যুরো প্রধান তিতাস চক্রবর্তী, খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স্ এসোসিয়েশন’র সভাপতি সুমন আহমেদ, দৈনিক জন্মভূমির চীফ ফটো সাংবাদিক দেবব্রত রায়, সাংবাদিক দেবনাথ রনজিৎ কুমার , একুশে টিভি’র বিভাগীয় প্রধান মহেন্দ্রনাথ সেন প্রমূখ।
প্রত্যাখান পত্রে বলেন, ভুল চিকিৎসায় দৈনিক জন্মভূমি’র স্টাফ রিপোর্টার মামুন খানের স্ত্রী শায়লা শারমিনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ মে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছিল। সেই বিষয়টির দিকে লক্ষ্যপাত না করে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনের মূল বিষয় এর সুনিদ্দিষ্ঠ ব্যাখ্যা বা তাদের প্রতি কোন ধরনের সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাদেরকে বাঁচাবার জন্য চক্রান্ত করা হয়েছে। যা নাগরিক সমাজ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আইনী সহযোগিতা সহ নানা কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পেটে ব্যাথা জনিত কারণে শায়লা শারমিন (৩০) কে গত ১৩ মার্চ গাইনী চিকিৎসক ডাঃ সানজিদা হুদা সুইটির কাছে গরীব নেওয়াজ ক্লিনিকে নেয়া হয়। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার রিপোর্ট দেখে ওভারিয়ান ছিস্টে আক্রান্ত বলে রোগীকে শনাক্ত করেন। পরামর্শ দেন-দ্রুত অপারেশন করতে হবে, নতুবা সিস্ট ফেটে ইনফেকশন হয়ে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। বলেন, এটি খুবই সাধারণ অপারেশন। ২০-২৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।
১৪ মার্চ রোগীর পেটে ভীষন ভাবে ব্যাথা শুরু হলে তাকে গরীব নেওয়াজ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাকে অপারেশনের আগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার ব্যবস্থাপত্র দেন এবং ১৫ মার্চ দুপুর দেড়টায় ওটির সময় নির্ধারণ করেন। দুপুর একটার পর ওয়ার্ড বয় এবং আয়ারা শায়লাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে ভিকটিমের স্বামী মামুন তাকে সান্তনা এবং কথা বলে সাহস যোগাবার একপর্যায়ে এ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক দিলিপ কুন্ডু তাকে অশোভন আচরণ করে ওটি থেকে বের করে দেন। নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৫ মার্চ দুপুর দেড়টায় অপারেশনের সময় নির্ধারণ করলেও ডাঃ সুইটি দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ওটিতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ঝড়ো গতিতে বেরিয়েই তিনি বলেন, মে বি রোগীর কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট হয়েছে। তাকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে, অন্তত পাঁচ ব্যাগ। আগে রক্তের কথা বলেন নি কেন? রোগীর স্বামীর এ প্রশ্নের জবাবে তিনি একজন ওয়ার্ড বয়কে ধমক দেন। ভিকটিমের স্বজনেরা রক্তের ব্যবস্থা করতে-করতে অন্তত ৪০ মিনিট কেটে যায়। তখন রোগীকে রক্তের ব্যাক-আপ হিসেবে ডাঃ দুইটি ইনজেকশধন পুশ করেন। ওটির জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল-সেখানে অবস্থানরতরা কোক খাচ্ছেন। হাসি-ঠাট্টা করছেন। দুই জন তার মুখে এ্যামরোব্যাগ মেশিনের দ্বারা পাম্প দিচ্ছেন। তখন তার পেট ফুলে ওঠে। এরপর ডাঃ সুইটি বলেন, তার ছিস্ট লিক করেছে। ব্লিডিং হচ্ছে। আই সিইও ব্যাক-আপ আছে এমন চিকিৎসালয়ে নিয়ে অপারেশন করতে হবে। এরপর তিনি, ডাঃ দিলিপসহ ক্লিনিকের লোকেরা তাকে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করেন এবং সেখানকার আইসিইউতে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যদিও সেখানে অপারেশনের আগে রোগীর নিকটজনের কাছ থেকে বন্ডে সাক্ষর নেয়া হয়নি। সেখানে আটদিন এবং শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৬ মার্চ সকালে শায়লা মৃত্যুবরণ করেন।

