
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার সদর উপজেলার তিন ফসলি জমিতে নিয়মনীতি না মেনে গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আবাদি জমি ও স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা এছাড়া টায়ারেরগুড়ার কালো ধোয়াই জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে
সাতক্ষীরা শহরে মাধবকাটি, ছয়ঘরিয়া, কাশেমপুর বাইপাস সড়ক, বাবুলিয়া, শিকড়ি, ভাদড়া ও হাওয়ালখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছেÑযেখানে এক বছর আগে ধান, পাট ও সবজি চাষ হতো, সেখানে এখন তৈরি হচ্ছে ইটভাটা। নির্মাণাধীন ইটভাটার পাশে চলছে ধান রোপণের কাজও।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইটভাটা নির্মাণের কারণে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ইটভাটার তাপে আশপাশের জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা বলেন, ‘প্রভাবশালী ভাটা মালিকদের কারণে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।’
ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, বনভূমি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা একাধিক ফসল উৎপাদিত জমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তবে আইন অমান্য করে এসব এলাকায় চলছে ইটভাটা নির্মাণের কাজ।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপজেলায় অধিকাংশ জমিই দুই বা তিন ফসলি। এসব জমিতে ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। অন্যদিকে বেশির ভাগ ইটভাটার নেই ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসকের অনুমোদন। ফলে সরকার প্রতি বছর হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। স্থানীয় কৃষকেরা প্রশাসনের কাছে অবৈধ ইটভাটা জরুরি ভিত্তিতে অপসারণের দাবী জানালেও
কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি
পরিবেশ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ এই প্রতিবেদককে বলেন ফসলি জমিতে ইটভাটা করা এটা একটা পরিবেশ আইনের বড় অপরাধ সে কারণে বিষয়টি দেখে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এমন কিছু যদি মনে হয় ওই ভাঁটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

