By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: সাতক্ষীরা সহ সারা দেশে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ ব্যস্ত চাষিরা
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > সাতক্ষীরা সহ সারা দেশে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ ব্যস্ত চাষিরা
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সহ সারা দেশে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ ব্যস্ত চাষিরা

Last updated: 2025/12/14 at 4:16 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 3 months ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সরিষা ফুলের গন্ধে মৌ-মৌ ফসলি মাঠ। আর মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা। ছয় ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় ফসলের মাঠের চিত্র। এর ধারাবাহিকতায় সবুজ মাঠ হয়েছে হলুদে ভরপুর।
এবছর প্রচন্ড শীত। তবুও সরিষার হলুদ ফসলি মাঠ অন্যরকম দৃশ্যে রূপ নিয়েছে। এবার শীতে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ মৌসুমে সরিষার চাষ করতে দেখা গেছে।
মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ। মৌমাছির গুণ গুণ শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ধেয়ে চলার অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। সকালের মিষ্টি রোদ আর বিন্দু বিন্দু শিশির ছুঁয়ে যায় ফুলগুলোকে।
সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে রঙিন এখন সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। সরিষার ফুল যেন দিক-দিগন্ত রাঙিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতি যেন হলদে শাড়ি পরা তরুণীর সাজে সজ্জিত হয়ে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সাতক্ষীরার উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৭টি উপজেলায় এ বছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব সরিষা খেতের পাশে প্রায় ৯ হাজার মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষিরা।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হোসেন মিয়া জানান, সরিষা চাষে খরচ কম। কিন্তু লাভ বেশি। ফলে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী। এ মৌসুমে অনেক কৃষক সরিষা খেতে শাক উৎপাদন করেও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। সরিষার তেলের চাহিদা থাকে সারাবছর ধরে। তাই সারাবছরই থাকে সরিষার চাহিদাও। দামও পাওয়া যায় ভালো। অনেক এলাকাতেই ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষে খরচ বেড়ে যাওয়া সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। বিগত বছরগুলোতে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় এবারো বেড়েছে সরিষার চাষাবাদ। তাই চলতি মৌসুমে পাল্টে গেছে উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠের চিত্রও।
এদিকে, সরিষা চাষাবাদের সময় মাঠজুড়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন -মধুচাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সরিষা খেতের এক পাশে কিংবা মাঝ বরাবর মধুচাষির অনেকগুলো বাক্স নিয়ে শুরু করেছেন মধু সংগ্রহের কাজ। মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে এনে মৌচাকে জমা করে, বাক্সে থাকে রাণী মৌমাছি।
কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষকদের সরকারিভাবে সরিষা বীজ সহায়তা দেওয়ার কারণে এবার সাতক্ষীরায় পতিত জমিতেও সরিষার চাষ করেছেন কৃষকরা। বীজ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খেতের পাশে মৌচাষিদের মৌ বাক্স স্থাপনের সুযোগ দিতেও তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে পরাগায়ন ভাল হওয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মধুর উৎপাদনও কয়েক গুণ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কলারোয়ার সোনাবাড়ীয়া গ্রামের মৌচাষি নুর মোহাম্মাদ গাজী জানান, প্রতি সরিষা মৌসুমে মধু সংগ্রহ ও ব্যবসা চলে রমরমা। অন্যান্য বছর এ মৌসুমে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে তারা অর্থ উপার্জন করে থাকেন। তারা আরও জানান, মৌ-চাষে খরচ কম, লভাংশ বেশি। তাই এ ব্যবসায় বেকার লোকজন তাদের কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী মাঠে সরিষা খেতের পাশে ১শ মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি আব্দুর রহমান। যশোরের কেশবপুর থেকে তিনি মধু সংগ্রহের জন্য সেখানে এসেছেন। চলতি মৌসুমে তার ১শ বাক্স থেকে পাঁচ থেকে সাত মণ মধু উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।
১০ হাজার মৌ-বক্স। এসব মৌ-বক্স থেকে প্রায় ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
শীতের সকালে চিরসবুজ প্রকৃতির বুকে কাঁচা হলুদের আলপনায় সেজে উঠেছে সরিষা ক্ষেত। ফুলের রেণু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছিরা ফিরিয়ে এনেছে গ্রামীণ প্রকৃতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জেলায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। ২০২৪ সালে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৩১ হেক্টরে। চলতি ২০২৫ মৌসুমে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় তুলনামূলকভাবে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, আগের তুলনায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধু ও মোম উৎপাদনও বাড়বে।
কৃষকরা জানান, আশ্বিন মাস থেকেই সরিষা চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৫–৬ মণ সরিষা উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৬–৭ হাজার টাকা। চাষীদের অভিযোগ, গত বছর যেখানে সারের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৭ টাকা, এবার তা বেড়ে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কৃষকরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সরিষা ফুলের হলুদ বরণে সেজেছে সাতক্ষীরার মাঠের পর মাঠ। চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় প্রতিটি মাঠজুড়ে চাষ হয়েছে সরিষার। ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য বসানো হয়েছে ৫ হাজার মৌ বক্স। যা থেকে ৭৫ টন মধু উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের।
শীতের সকালে সোনাঝরা রোদে ঝিকমিক করছে সরিষা ফুল। অপরূপ সৌন্দর্যে নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাতক্ষীরার গ্রামীণ প্রকৃতি। সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির দল।
গতবছর সাতক্ষীরা জেলায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়। এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৫০ হেক্টর। তবে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৩১ হেক্টর জমিতে। সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ করেছে সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় চাষিরা।
সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌচাষিরা। এজন্য মাঠের পাশে বসানো হয়েছে ৫ হাজার মৌ বক্স। প্রতিটি চাক থেকে মৌসুমে ৫-৭ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে প্রতি মণ সারিষা ফুলের মধু ১৫-১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি সহায়তা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এছাড়া, এবারে ভেজাল মধু শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে মধু পরীক্ষা করছে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর।সরিষা ফুলের হলুদ বরণে সেজেছে সাতক্ষীরার মাঠের পর মাঠ। চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় প্রতিটি মাঠজুড়ে চাষ হয়েছে সরিষা। ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য বসানো হয়েছে আনুমানিক ৫ হাজার মৌ বক্স। যা থেকে ৭৭ থেকে ৮০ টন মধু উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের।
শীতের সকালে সোনাঝরা রোদে ঝিকমিক করছে সরিষা ফুল। অপরূপ সৌন্দর্যে নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাতক্ষীরার গ্রামীণ প্রকৃতি। সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির দল।
গতবছর সাতক্ষীরা জেলায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়। এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রয় ২০ হাজার হেক্টর। তবে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ করেছে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় চাষিরা।
সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌচাষিরা। এজন্য মাঠের পাশে বসানো হয়েছে আনুমানিক ৫ হাজার মৌ বক্স। প্রতিটি চাক থেকে মৌসুমে ৫-৭ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে প্রতি মণ সারিষা ফুলের মধু ১৫-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি সহায়তা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এছাড়া, এবারে ভেজাল মধু শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে মধু পরীক্ষা করছে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর।
ভ্রাম্যমাণ মধু খামারিরা সরিষা, বরই, লিচু ফুলের মধুর পাশাপাশি সুন্দরবনের পাশে মৌ বক্স স্থাপনের মাধ্যমে সারাবছর মধু সংগ্রহ করেন। এই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে জেলার প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের।
সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত বলেন, ‘মোবাইল ল্যাবের মাধ্যমে এর আগেও মধু পরীক্ষা করেছি। এইভাবে আমরা মধুর ভেজাল শনাক্ত করেছি। এর মাধ্যমে আমরা মধু ব্যবসায়ীদের একটি বার্তা দিতে চাই তা হলো কেউ যদি মধুতে ভেজাল করে তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আরো বলেন, মোবাইল ল্যাবের মাধ্যমে এর আগেও মধু পরীক্ষা করেছি। এইভাবে আমরা মধুর ভেজাল শনাক্ত করেছি। এর মাধ্যমে আমরা মধু ব্যবসায়ীদের একটি বার্তা দিতে চাই তা হলো কেউ যদি মধুতে ভেজাল করে তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ খামার স্থাপনের ফলে মৌমাছি মাধ্যমে ফুলের পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়। ফলে সরিষার ফলন বাড়বে ১০-২০ শতাংশ।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ খামার স্থাপনের ফলে মৌমাছি মাধ্যমে ফুলের পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়। ফলে সরিষার ফলন বাড়বে ১০-২০ শতাংশ।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন।‌পালন ক‘মৌমাছি পালন করে অনেক বেকার যুবক তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এ পর্যন্ত ২৮ জন কৃষক ৫ হাজার মৌ বক্স বসিয়েছে। আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন এবার অর্জিত হবে।’
ভ্রাম্যমাণ মধু খামারিরা সরিষা, বরই, লিচু ফুলের মধুর পাশাপাশি সুন্দরবনের পাশে মৌ বক্স স্থাপনের মাধ্যমে সারাবছর মধু সংগ্রহ করেন। এই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, সরিষার ফুল থেকে মধু ও মোম সংগ্রহে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। একটি মৌ-বক্স থেকে মৌসুমে পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে প্রতি মণ সরিষা ফুলের মধু ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধু ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি সহায়তা পেলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও মধু রপ্তানি করা সময়।
এদিকে ভেজাল মধু শনাক্তে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে নিয়মিত পরীক্ষা চালাচ্ছে।উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, মৌমাছি পালন কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক বেকার যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ২৮ জন কৃষক প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করেছেন। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার প্রায় ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা সরিষা ছাড়াও বরই, লিচু ফুল এবং সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মৌ-বক্স স্থাপন করে সারা বছর মধু সংগ্রহ করেন। কৃষি বিভাগের দাবি, এই খাতে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে
সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত জানান, ভেজাল শনাক্তে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ ভেজাল পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছ
কৃষি কর্মকর্তারা আরও জানান, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-বক্স স্থাপনের ফলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার মাটি ও আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে লবণাক্ত সহিষ্ণু সরিষাসহ বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করা হয়।
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মাঠজুড়ে ফুটেছে সরিষার হলুদ ফুল। পুরো মাঠ জুড়ে রঙিন দৃশ্য, আর সেই ফুলের রেণুতে আকৃষ্ট হয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা।উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মেইন রাস্তার পাশে সওকত আলীর ১২ শতক জমি এক মাসের জন্য লিজ নিয়ে ১৫০টি বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি মোমিনুর আলী। এছাড়াও মধু চাষে মোমিনুর আলী সঙ্গে কাজ করছেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌচাষি সুমন মাঝি ও রবিউল ইসলাম।সরিষা ফুলের মৌসুমে এসব বাক্স থেকেই সংগ্রহ করা হচ্ছে খাঁটি মধু।
যশোরের মনিরামপুরে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে দিগন্তজোড়া মাঠ। এ মাঠ থেকে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দে মধু সংগ্রহ করছে। এ এক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। বর্তমানে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। তবে মধু সংগ্রহে প্রশিক্ষণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দিলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ বাড়বে বলে মনে করেন মৌচাষিরা।
উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মেইন রাস্তার পাশে শওকত আলীর ১২ শতক জমি এক মাসের জন্য লিজ নিয়ে ১৫০টি বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি মোমিনুর আলী। এছাড়াও মধু চাষে মোমিনুর আলীর সঙ্গে কাজ করছেন সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মৌচাষি সুমন মাঝি ও রবিউল ইসলাম। সরিষা ফুলের মৌসুমে এসব বাক্স থেকেই সংগ্রহ করা হচ্ছে খাঁটি মধু।
চাষিরা জানান, এপিস সেরানা জাতের মৌমাছি (খুদে মৌমাছি) ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রজাতির মৌমাছি বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। মধু সংগ্রহের জন্য সরিষা ক্ষেতের আশপাশের নিরাপদ জায়গায় কাঠের তৈরি বাক্সগুলো বিছিয়ে রাখা হয়। একেকটি বাক্সে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি মৌচাকের ফ্রেম রাখা হয়। প্রতিটি বাক্সেই একটি করে রানি মৌমাছি রয়েছে। এই রানি মৌমাছি প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার ডিম দেয়। ১৩ দিন পর ওই ডিম থেকে মৌমাছির বাচ্চা বের হয়। এরপর মোট ২৬ দিন তারা সরিষার ফুল থেকে রেণু ও মধুরস সংগ্রহ করে। সেখান থেকেই সপ্তাহে একবার করে মধু সংগ্রহ করা হয়। ৩৯ দিন বয়স হলে মারা যায় মধু সংগ্রহকারী এসব সাধারণ মৌমাছি।
মৌচাষি মোমিনুর আলী বলেন, আমরা সরিষা ক্ষেত থেকে বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করে থাকি। বাকি আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছিদের পুষিয়ে রাখতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করার উপযুক্ত সময়। প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। উৎপাদিত এসব খাঁটি মধু কিনে নেয় দেশের পরিচিত ব্র্যান্ডগুলো। বাজারে প্রতি কেজি সরিষা ফুলের মধু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। সঠিক পরিবেশ ও যত্ন পেলে মণিরামপুর এলাকাটি মধু উৎপাদনের জন্য অনেক সম্ভাবনাময়। সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলে মধু উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
মনিরামপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ বলেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির চাষ হলে ফলন ১০-২০ ভাগ বেড়ে যায়। সরিষার ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সরিষা ক্ষেত থেকে বিনাখরচে মধু সংগ্রহ লাভজনক। এতে মৌমাছি ব্যবসায়ী যেমন মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে সরিষার ফলনও বাড়ছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার গিয়ে মৌচাষিদের সঙ্গে আলাপ হলে তারা জানান, এপিস সেরানা জাতের মৌমাছি (খুদে মৌমাছি) ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রজাতির মৌমাছি বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। মধু সংগ্রহের জন্য সরিষা ক্ষেতের আশপাশের নিরাপদ জায়গায় কাঠের তৈরি মৌবক্সগুলো বিছিয়ে রাখা হয়। একেকটি বাক্সে মোম দিয়ে তৈরি আট থেকে দশটি মোম সম্বলিত ফ্রেম রাখা হয়। প্রতিটি বাক্সেই একটি করে রাণী মৌমাছি রয়েছে। এই রাণী মৌমাছি প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার ডিম দেয়। ১৩ দিন পর ওই ডিম থেকে মৌমাছির বাচ্চা বের হয়। এরপর মোট ২৬ দিন তারা সরিষার ফুল থেকে রেণু ও মধুরস সংগ্রহ করে। সেখান থেকেই সপ্তাহে একবার করে মধু সংগ্রহ করা হয়। ৩৯ দিন বয়স হলে মারা যায় মধু সংগ্রহকারী এসব সাধারণ মৌমাছ
মৌচাষি মোমিনুর আলী বলেন, আমরা সরিষা ক্ষেত থেকে বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করে থাকি। বাকি আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছিদের পুষিয়ে রাখতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করার উপযুক্ত সময়। প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। উৎপাদিত এসব খাঁটি মধু কিনে নেয় দেশের পরিচিত ব্র্যান্ড ফ্রেস, একমি এবং বিভিন্ন অনলাইন শপ। বাজারে প্রতি কেজি সরিষা ফুলের মধু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। সঠিক পরিবেশ ও যত্ন পেলে মনিরামপুর এলাকাটি মধু উৎপাদনের জন্য অনেক সম্ভাবনাময়। সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলে মধু উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
মৌমাছি,মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই। কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের লেখা ‘ কাজের লোক ‘এর প্রধান চরিত্রে ফুল থেকে মধু সংগ্রাহক মৌমাছির ব্যস্ততার যেন অন্ত নেই।
শীত মৌসুমের শুরুতে মাঠে মাঠে সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুলে ভরে গেছে। অগ্রহায়ণের ঝিরিঝিরি বাতাসে সেই ফুল আপন মনে দোল খাচ্ছে। ফুলের সুবাস যেমন মানুষকে বিমোহিত করে তেমনি মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা মৌমাছি এক ফুল থেকে অন্য ফুলে মধু সংগ্রহে এই মুহুর্তে দল বেধে মাঠের পর মাঠ জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে মধু সংগ্রহের জন্য। এমন দৃশ্য এখন মাগুরা’র শালিখা উপজেলার মাঠে মাঠে।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে মৌচাষীদের নানা কার্যক্রম। উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে চলতি মৌসুমে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে আসা সাতক্ষীরা সদর পলাশপোলের রবিউল ইসলাম জানান, মধু সংগ্রহের জন্য স্টীল ও কাঠ দিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি করা বাক্স যার উপরের অংশ কলো রঙের পলিথিন বা চট দিয়ে মোড়ানো হয়েছে।
এসকল বাক্সের ভিতরে কাঠের তৈরি ফ্রে ছেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে এক ধরনের সীট। পরবর্তীতে বাক্স গুলোকে সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিসারি ভাবে রাখা হয়। পাশাপাশি বাক্সগুলির ভিতরে দেওয়া হয় রানী মৌমাছি, যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি। রানীর আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানী মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন থেকে চার হাজার পুরুষ মৌমাছি থাকে এক একটি বাক্সে।
মৌচাষী রবিউল ইসলাম জানান, বাজারে সরিষা ফুলের মধুর চািহদা বেশি। দামও পাওয়া যায় ভালো, তাই প্রতিবছর সরিষার মৌসুমে মধু সংগ্রহ করতে আসেন এখানে। প্রতি কেজি সরিষা ফুলের মধু ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান। তাই শীত মৌসুমে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যাস্ততা বেড়ে যায় তাদের।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মৌচাষী ইসমাইল হোসেন জানান, কৃত্রিম উপায়ে মৌচাষ করে সপ্তাহে ১০ মন করে চার মাসে প্রায় ১৬০০ মন মধু সংগ্রহ করা হয়। আরো জানান, যেসব এলাকায় মৌবাক্স স্থাপন করা হয়, সেখান থেকে তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে।
কৃত্রিম উপায়ে মৌচাষ করে মধু সংগ্রহপূর্বক বিক্রি করে এসকল বেকার ছেলেরা একদিকে যেমন অর্থ উপার্জন করছে, তেমনি সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে পরিপূরক ভুমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আবুল হাসনাত জানান,মৌমাছি গুলো যখন শরিষা ফুলের সংস্পর্শে আসে তখন সরিষার পরাগায়ন ঘটে, এতে সরিষা ফলনের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।তাই কৃত্রিম উপায়ের মৌচাষকে,সরিষার ফলন বৃদ্ধি ও অর্থ উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বলে মনে করেন তিনি।
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা চাষের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। অল্প খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছে বলে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের দাবী।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি । কিন্তু আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। এ বছর বন্যার পানি নিষ্কাশনের কারণে আবাদি জমি বেড়েছে এবং অল্প খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছে বেশি। যার কারণে চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমি। সরিষা চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে এ বছর চাষ হয়েছে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার মো. সাঈদুর রহমান বলেন, এ বছর আমন মৌসুমের শুরুতে অধিক পরিমাণে বৃষ্টিপাতের কারণে অধিকাংশ বিলে আমন ধানের আবাদ হয়নি। ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকার বিল সমূহের পানি নিষ্কাশন হয়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা বেশি বেশি জমিতে সরিষার চাষ করেছে । যার ফলে সরিষা চাষের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে।
উপজেলার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. রুস্তম আলী  সরিষার চাষে স্থানীয় ও উপশী জাতের সরিষার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বারী- ১৪ ও বারী-১৮ অধিক উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার চাষ হয়েছে বেশি। এ বছর উপজেলার ত্রিমোহীনি, সাগরদাঁড়ি, সাতবাড়িয়া, হাসানপুর ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নে সরিষার চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
যশোর জেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। ফলন ভালো হওয়ায় ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় এ রবিশস্য চাষ বেড়েই চলেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে যশোরে ১৩ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার হেক্টর জমি বেশি। গত মৌসুমে যশোরে সরিষা আবাদ হয় মাত্র ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এক বছরের ব্যবধানে কৃষক রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ করায় কৃষি বিভাগ এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ বছর বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বারি সরিষা-১৫, টরি সরিষা-৭ জাতসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। ধানের চেয়ে লাভ বেশি হওয়া কৃষক সরিষা আবাদকেই এখন বেছে নিচ্ছেন। জেলার ৮টি উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সরিষা কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
জানা যায়, গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ জেলার কৃষকরা ধান আবাদের লোকসান পুষিয়ে নিতে বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরিষা আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
জেলার ঝিকরগাছা এলাকার বাকড়া গ্রামের কৃষক বাবলুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে আমন চাষ করার পরপরই তারা একই ক্ষেত সরিষা আবাদ করেছেন। এ বছর আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। যে কারণে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে সরিষা তুলে সময় হয়েছে। আশা করছি এক বিঘা জমিতে ৬-৭ মণ সরিষা আবাদ হবে।
প্রতি মণ সরিষা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার ফলে সরিষা আবাদ ধান আবাদের চেয়ে দ্বিগুন লাভজনক বলে জানান তিনি।
কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, আমরা ধান আবাদ করে লাভতো দূরের কথা উৎপাদন খরচ তুলতে পারিনি। অথচ সরিষা আবাদ করে দ্বিগুন লাভ করা সম্ভব। সরিষা আবাদে তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে, সময়ও কম লাগে। তেমন সেচ দিতে হয় না এবং খরচ হয় ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। এক বিঘা জমিতে ৭-৮ মণ সরিষা হয়।
তিনি আরও বলেন, সরিষা ঘরে তুলে একই জমিতে আমরা আবার পাট চাষ করবো। ফলে এক বছরে সহজে তিন আবাদ করে আমরা বেশি লাভ করতে সক্ষম হচ্ছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিরেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষকরা সরিষা আবাদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। যে কারণে এক বছরের ব্যবধানে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ বেশি হয়েছে।
তিনি বলেন, “শস্য নিবিড়তা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরিষা আবাদ খুবই উপযোগী। ফলে সরিষা আবাদ করে কৃষক একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভজনক হচ্ছেন, তেমনি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কৃষকদের বেশি বেশি করে সরিষা আবাদ করতে উৎসাহিত করছি।”হলুদের চাদরে ঢাকা মানিকগঞ্জের ফসলের মাঠগুলো। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সরিষা ফুলের হলুদ আর হলুদ। সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মৌচাষিরা। এ চাষে লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় চাষিদের। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পাবনা, জামালপুর, সাতক্ষীরা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৪২টি মৌ-খামারি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরিষা ফুল থেকে বিশেষ কায়দায় মধু সংগ্রহ করছে। তাদের সংগৃহীত এই মধু রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে সাতটি উপজেলায় ৩৫ হাজার ১শ’ ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এই সরিষা ফুল থেকে প্রায় ৩২ মেট্টিকটন মধু সংগ্রহ করা হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৪২টি মৌখামারিরা মধু সংগ্রহের জন্য ৬ হাজার ১শ’ ৩১টি বাক্স বসিয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার ৫শ’ ৮ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এই মধু সংগ্রহ চলবে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে সরিষার ভালো আবাদ হয়েছে। মধু সংগ্রহের জন্য ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে কয়েকশ মৌবাক্স।

জন্মভূমি ডেস্ক December 14, 2025
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article শরণখোলায় শহিদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত
Next Article মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবীদের কেন হত্যা করা হয়েছিল
আরো পড়ুন
খুলনামহানগর

খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা সাব্বির জখম

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 8 hours ago
খুলনাজেলার খবর

খুলনায় খাল খনন উদ্বোধন করলেন – আজিজুল বারী হেলাল এমপি

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 10 hours ago
খুলনা

সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া হরিণ জীবিত উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 10 hours ago

দিনপঞ্জি

March 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
« Feb    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

কেমন ছিল প্রিয় নবীজির (সা.) রমজান

By Correspondent 11 hours ago
জাতীয়শীর্ষ খবর/ তাজা খবর

বকুলসহ সংসদের হুইপ হলেন ৬ এমপি

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 11 hours ago
জাতীয়শীর্ষ খবর/ তাজা খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী‌কে মধ‌্যপ্রা‌চ্যের তিন মন্ত্রীর ফোন

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 11 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?