
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাত বিএনপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তিনটি আসনে । তার মধ্য সাতক্ষীরা ১সাতক্ষীরা ২ ওসাতক্ষীরা ৪ এবং সাতক্ষীরা ৩কালিগঞ্জ আশা শুনিএই আসনে বিএনপি’র হেভি ওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলম মাঠে থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এই আসনে বিএনপি সে কারণে বর্তমানে দাড়িপাল্লার ওজন বেশি বলে জানিয়েছেন সুধীমহল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ । কারণ ডাক্তার শহিদুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি’র ও বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন দুজনই বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী । যার কারণে বিএনপি’র এই দুই প্রার্থীর মধ্য ধানের শীষের ভোট ভাগাভাগি হয়ে গেছে আর দাঁড়িপাল্লার ভোট ওজনে বেশি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা । ফলে জামায়াতে ইসলাম সাতক্ষীরা চারটি আসেন বিজয় আশঙ্কার মধ্যে সাতক্ষীরা ৩ এ বিজয় নিশ্চিত হয়ে গেছেন বলে জামায়াত ইসলামের দলীয় সূত্রে জানা গেছে ।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নতুন আসন বিন্যাসের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিতির ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ এবং জামায়াতের সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, এই দুই বাস্তবতায় সাতক্ষীরার চারটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে জামায়াত ইসলামী এর দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা সবকটি আসন বি এন পি ফিরে পাবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে.বলে জানা গেছে।
৭টি উপজেলা, ৭৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট।
জেলার চারটি আসনে প্রার্থী হতে মোট ২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই–বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী ২০ জন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে পাঁচজন, সাতক্ষীরা-২ আসনে সাতজন, সাতক্ষীরা-৩ আসনে পাঁচজন ও সাতক্ষীরা-৩ আসনে তিনজন। সব আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে।
দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলাম অভ্যন্তরীণ বিরোধ না থাকায় দলটি অনেক আগেই চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামে।অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর একাধিক আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নানা কর্মসূচি হয়। পরবর্তীতে হাই কমান্ডের নির্দেশে সেই বিভেদ মিটলেও একটি আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এক নেতা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াত ও একটিতে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে জামায়াত সদর আসনে জয় পায়। বাকি চারটি যায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে। ২০০১ সালে জামায়াত তিনটি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনেই প্রথম সাতক্ষীরা-১ আসনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসনসংখ্যা কমে চারটি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একটি আসনও পায়নি।
জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লা পলাশ বলেন, ‘দীর্ঘ নির্যাতনের পরও আমাদের নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সবাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপিকে জয়ী করবে বলে আমার বিশ্বাস।
অপরদিকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ বলেন, ‘কঠিন দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। এবারও চারটি আসনেই বিজয়ী হব।
বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন বিগত ১৬বছরে তালা কলরোয়াই রাস্তাঘাট সহ অবকাঠামগত কোন উন্নয়ন না হওয়াই জনগণ এবার আমাকে পেয়ে আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক পাটকেলঘাটা থানা কে উপজেলায় রূপান্তর ও তালাকে পৌরসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবং তালাও কলারোয়াতে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের পরিকল্পনা করবেন।
জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ও তাঁর দল সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন।
বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি বাকি তিন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব মো. ইয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিও বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাটকেলঘাটা থানা শাখার সভাপতি শেখ মো. রেজাউল করিম। কিন্তু এলাকায় তাদের প্রচার প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না।
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আবদুর রউফকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর আসনটিতে বিরোধ দেখা দেয়। মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম ও জেলা কমিটির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদের সমর্থকেরা আন্দোলনে নামেন।পরে আব্দুর রউফ সবার মান ভাঙ্গিয়ে নির্বাচনের এক টেবিলে বশিয়ে তার পক্ষে কাজ করার জন্য একত্রিত হয়ে মাঠে নামান।
আবদুর রউফ বলেন, সাধারণ ভোটাররা তাঁকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রশ্নে বিএনপির সবাই এখন এক। সাতক্ষীরায় বিএনপি এখন খুব শক্তিশালী। আমি পাশ করলে জনগণের পাশে থাকব সব সময। জনগণের সকল চাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক।তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মুখ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের তাঁর ও তাঁর দলের ওপর আস্থা রয়েছে। বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচনগুলোতে মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা বদ্ধপরিকার
এ আসনে আরও প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক জি এম সালাউদ্দীন, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জেলা শাখার সদস্য শফিকুল ইসলাম (সাহেদ)।
জেলার এই একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি দলের এক নেতাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শহিদুল আলম।
এ বিষয়ে শহিদুল আলম বলেন, তাঁর দলীয় মনোনয়নের জন্য এ আসনের দল, মত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছিলেন। বিএনপি থেকে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে দল থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, দুঃসময়ে তিনি ও দল সাধারণ ভোটারদের পাশে ছিল। তাঁরা তাঁকে ও দলকে মূল্যায়ন করবেন।তিনি পাশ করলে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া ও গুরুত্ব কে সবসময় প্রাধান্য দেবেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন , শহিদুল আলম ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা জামায়াতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সাবেক আমির মুহা. রবিউল বাসার। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা সৎ মানুষকে পছন্দ করেন ও আস্থা রাখেন। আমি সব সময় সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।
এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. আলিফ হোসেন ও বাংলাদেশ মাইনরটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সদস্য রুবেল হোসন
শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান মনির এবং জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে শ্যামনগর অংশের প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে
যাচাই-বাছাই শেষে আসনটিতে তিনজন বৈধ প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান।
জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম, এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এস এম মোস্তফা আল মামুন।
ভোটাররা বলছেন, নতুন মুখ হলেও প্রবাসী মনিরুজ্জামান প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অপর দিকে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম দুবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছ
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে জনসাধারণের ভালো–মন্দে পাশে থাকার পাশাপাশি শ্যামনগর উন্নয়নে, বিশেষ করেতরুণসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে তাঁরা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতে ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। ভোটারদের তাঁর প্রতি আস্থা রয়েছে। তারা শত ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে।সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন বেশ সরগরম। আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনে প্রতিটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। জামায়াতের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরায় দলটি আগেভাগেই চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। এতে প্রচার-প্রচারণায় তারা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকা, দলীয় মনোনয়ন ঘোষণায় বিলম্ব এবং মনোনয়নবঞ্চিতদের পাল্টা কর্মসূচির কারণে দলটি শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মাঠ পর্যবেক্ষণে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)
এই আসনে জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয়। ফলে তিনি শুরু থেকেই প্রচারের বাড়তি সুযোগ পেয়েছেন। অপরদিকে, বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি মুক্তি পেলেও নিজ দলের নেতা, কলারোয়ার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আক্তারুল ইসলাম মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে মাঠে নামায় দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত হাবিবুল ইসলাম হাবিব মনোনয়ন পেলেও ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই নেতাকে একসঙ্গে প্রচারে দেখা যায়নি।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতপ্রার্থী ইজ্জত উল্লাহ নারীকর্মী, স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছান। বর্তমানে বিএনপিপ্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও তার স্ত্রী নিয়মিত এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে জামায়াতের শেখ আনসার আলী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সৈয়দ কামাল বখত, ২০০১ সালে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে মহাজোট ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ফিরোজ আহমেদ স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এবার বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. রেজাউল করিম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইয়ারুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৩ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭৩ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা)
এবার প্রথমবারের মতো দেবহাটা উপজেলাকে সদর আসনের সঙ্গে যুক্ত করায় ভোটের হিসাব কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আলিপুর ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ। দুজনই নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচারে সক্রিয়।
এই আসনে অতীতে জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হলেও বিএনপির কোনো প্রার্থী এখনও বিজয়ী হতে পারেননি। তবে দেবহাটা যুক্ত হওয়ায় ভোটের সমীকরণ বদলাতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৮৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৫ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ)
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ‘গরিবের ডাক্তার’খ্যাত ডা. শহিদুল আলম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। এতে স্থানীয় বিএনপির ভেতরে বিভাজন স্পষ্ট।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন। স্থানীয় প্রভাব, জনপ্রিয়তা ও দলীয় প্রতীক- সব মিলিয়ে এখানে জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, ও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলম দুজনই হেভিওয়েট প্রার্থী সেজন্য ধানের শীষের ভোট দুই দিকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে যার কারণে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে দাঁড়িপাল্লার ওজন বেশি হয়ে গেছে। তবে নির্বাচনী আমেজ আরো একটু তৈরি হলে এই আসনের ভোট সংক্রান্ত বিষয় পরিষ্কার হওয়া যাবে। কিন্তু কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে নলতা বাজারের ভ্যানচালক আমিনুর রহমানের সাথে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন বিএনপি’র দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী রবিউল বাশার অতি সহজেই পাশ করতে পারে এবং পাশ করা সম্ভাবনাই বেশি।
এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ২২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৩৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৩ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)
সুন্দরবন-ঘেঁষা এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে বেশ বৈচিত্র্যময়। এখানে সব বড় দল থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির তরুণ প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্যামনগরকে আলাদা করে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস করায় ভোটের সমীকরণও নতুনভাবে তৈরি হয়েছে। তরুণ ভোটারদের কাছে ড. মনিরুজ্জামানের গ্রহণযোগ্যতা এবং গাজী নজরুল ইসলামের অভিজ্ঞতা- এই দুইয়ের সংঘাতে আসনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা থাকলেও সাতক্ষীরা ৩ আসনের চিত্র ভিন্ন বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল । অন্য তিনটি আসনে জামায়াত কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারা জয়ী হবে, তা জানতে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সাতক্ষীরাবাসীকে।

