
জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনা-১ আসনের সাবেক এমপি শেখ আবুল হোসেন দিল্লি ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন)।
গত বৃহস্পতিবার রাতেই দিল্লিতে অবস্থানরত মরহুমের কন্যা তানি ফোনে জানান, আবুল হোসেন ক্লিনিক্যালি ডেড। ডাক্তারের ডিক্লিয়ারের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এর কয়েক ঘন্টা পরেই জানা যায়, জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে গেলেন সদা হাসিখুশি, সদালাপী শেখ আবুল হোসেন, যিনি দাদা হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
আবুল হোসেনের এক শুভানুধায়ী জানান, বন্ধু মহলে প্রচন্ড আড্ডাবাজ ও অতিথিপরায়ণ ছিলেন তিনি। নিজেও খেতেন, মানুষকেও খাওয়াতেন। সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরে বা রাতের খাবারও তিনি দলবল বা সাথের লোকজন নিয়ে খেতেন। পুরা রোজার মাস রীতিমতো রুম ভর্তি লোকজন নিয়ে ইফতার করতেন। সহজেই মানুষকে আপন করে নিতেন, মানুষের উপকার করতেন। মাছ মারার প্রচন্ড নেশা ছিলো, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মাছ মারায় অংশ নিতেন। খুব সহজ, সরল, সাদা মনের মানুষ ছিলেন, মানুষকে সম্মান করতেন।
৮৮ তে বছর দেড়েক সময়ের জন্য স্বতন্ত্রভাবে এমপি হলেও মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এমপি হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। এমপি হবার আগে তিনি নিজ এলাকায় কমিশনারও ছিলেন। আপন ছোট ভাই জাতীয় পার্টির খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত শেখ আবুল কাশেমকে অত্যাধিক ভালোবাসতেন। মূলত দুর্বৃত্তদের গুলিতে আবুল কাশেম নিহত হন। ক্রসফায়ারে আপন ভাইপো ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর লিটু, অসুস্থ হয়ে নিজের ছেলে বাবু মারা যাবার পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেন।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি খুলনা জেলা ও নগরের সভাপতি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়াারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেব নিজেও তাকে পছন্দ করতেন। খুলনা আসলে এরশাদ সাহেব তার বাসায় বেশ কয়েকবার এসেছেন। বিএনপি আওয়ামী লীগ কিংবা খুলনার অন্যান্য রাজনৈতিক ও ইসলামিক দলের নেতাদের সাথে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বরাবরই ছিলো। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার সাথেই তিনি মিশতেন।