
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা: শীতল চৌধুরীর সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ফুসে উঠেছেন সাতক্ষীরার ভূমিহীন সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ।
কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার পরও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সম্প্রতি প্রায় ৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্যে নেমেছেন তিনি। টেন্ডারের সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে কাউকে টেন্ডার ক্রয় করতে দেননি।
এনিয়ে একজন ঠিকাদার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন।
গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় ভুমিহীণ নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। জেলা ভুমিহীণ সমিতির সভাপতি কওছার আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা ভুমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, রিয়াজুল ইসলাম, আবুল হাসান, মোস্তাকিম, ফিরোজ আহম্মেদ, নজরুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, আব্দুল হাকিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,গত ২৪ জুলাই ২৩ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: আ.ফ.ম রুহুল হক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জেলার ২২ লাখ মানুষের প্রাণের প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। দুই প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের শেষ নেই দাবী কওে বক্তারা বলেন, হাসপাতালে অনিয়মের পাশাপাশি রোগীদের ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা: শীতল চৌধুরী সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করেন। ঠিকমত অফিসে আসেন না। পরিচালক যোগদানের কয়েক মাস পরেই ২ কোটি টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ী কিনেছেন। সে সময় টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করে ওই গাড়ী ক্রয় করেছেন তিনি।
বর্তমানে হাসপাতালের স্টাফদের বেতন ছাড়াতে গেলেও টাকা দিতে হয় ওই দূর্নীতিবাজ পরিচালক ডা: শীতল চৌধুরীকে। ডা: শীতল চৌধুরী প্রকাশ্যে বলেন, আমি মন্ত্রী এমপিদের ছাড়া কারো সাথে কথা বলি না, আর কাউকে মানুষও মনে করি না। তার সাথে দেখা করতে গেলে অন্তত ৪ জনের কাছে কৈফিয়ত দিয়ে যেতে হয়। ফলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাতক্ষীরার মানুষ এমন দাবী ভুমিহীন সমিতির নেতাদের।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দুর্গন্ধে রোগীরা আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। মেডিকেলের ল্যাব, এক্সরে বিভাগ এবং কেবিন ভাড়া থেকে প্রতি সপ্তাহে মোটা অংকের টাকা পরিচালকের হাতে দিতে হয়। তা না দিলে বিভাগ পরিবর্তন করে দেওয়ার হুমকি ধামকিও প্রদর্শন করেন ডা: শীতল চৌধুরী। বক্তারা বলেন অবিলম্বে তদন্ত পূর্বক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ডা.শীতল চৌধুরীকে অপসারণের দাবি জানান। অপসারণ করা না হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ঘেরাওসহ অবরোধ কর্মসূচির হুশিয়ারী দেয়া হয়।

