শ্যামনগর প্রতিনিধি : আজ ২১ রমজান। ইসলামের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। এ দিনে ইসলামের ৪র্থ খলিফা হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাত বরণ করেন। আবার এ দিনেই খেলাফত লাভ করেন তাঁরই পুত্র হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
রমজানের ২১ তারিখ হজরত মুসা আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা হজরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে তুলে নেন। ২১ রমজান অনেক নবি-রাসুল জন্ম ও মৃত্যু হয়।
২১ রমজান মুসলিম উম্মাহর কাছে যেমনি এক হৃদয় বিদারক ঘটনা আবার অন্য দিকে ইসলামের অনন্য আনন্দের দিন। কারণ এ দিনে হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু খেলাফত লাভ করেছিলেন।
– হজরত হাসান ইবনে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি এমন রাতে শাহাদাত বরণ করছেন; যে রাতে কুরআনুল কারিম নাজিল হয়েছে। হজরত ঈসা আলাইহি সালামকে আসমানে তুলে নেয়া হয়েছে এবং হজরত মুসা আলাইহিস সালামও ২১ রমজান মারা যান।- হজরত আলি রাদিয়াল্লাহ আনহু ইসলামের দাওয়াত গ্রহণের দিক থেকে হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার পরেই ইসলাম গ্রহণ করেন। বালকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।- হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাত ভাই। তাঁর পিতা আবু তালেবের তত্ত্বাবধানেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লালিত পালিত হন।
আরও পড়ুন > রোজায় ইফতার বিতরণ ও আর্থিক অনুদানের তাৎপর্য
– হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর পিতা আবু তালেব; প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা আবদুল্লাহ এবং যুবাইর এ তিনজন ছিলেন সহোদর। অর্থাৎ তাঁরা ৩জনই এক মায়ের সন্তান।- যখন তিনি কিশোর তখন বনু হাশেম গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার সময় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন।- হিজরতের রাতে মক্কায় চরম বিপদের সময় বিশ্বনবি হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকেই তাঁর বিছানায় শুইয়ে রেখে গিয়েছিলেন। যাতে বিশ্বনবির কাছে গচ্ছিত থাকা আমানতের প্রকৃত মালিকগণকে তা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন।- হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু প্রিয়নবির জীবদ্দশায় সংঘটিত প্রত্যেকটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বীরত্ব ও সাহসিকতার এমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা আজো ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আরও পড়ুন > রোজা অবস্থায় ভুলে কোনো কিছু খেয়ে ফেললে যা করবেন
– প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সবচেয়ে আদরের সন্তান হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তাঁর সঙ্গে বিবাহ দেন।- তিনি ছিলেন জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় অপ্রতিদ্বন্দ্বি। তাঁর সম্পর্কে বিশ্বনবির বক্তব্য ছিল- ‘আমি জ্ঞানে শহর আর আলি হলো সে শহরের দরজা।’- তিনিই ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় বাইয়াতে রেদওয়ানের চুক্তিপত্রের শর্তগুলো লেখার মাধ্যমে কাতেবের ভূমিকা পালন করেন।
আরও পড়ুন > সারারাত নামাজের সাওয়াব লাভের সহজ উপায়
– তিনি নবম হিজরিতে হজরত আবু বকরের নেতৃত্বে হজ পালনের সময় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে সুরা তাওবার ১ থেকে ৩৭ আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করেন। আর এ আয়াতগুলোতে ছিল মুক্তির ঘোষণা এবং কাফের মুশরেকদের হজ্ব সম্পাদনে অনুমতি দানের অস্বীকৃতি।
ইসলামের ইতিহাসে ৪০ হিজরির ২১ রমজান এক ঐতিহাসিক দিন। এ দিনেই বালকদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবনে মুলযান-এর তরবারির আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তাঁর শাহাদাতের পর ওই দিনই হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতের মসনদে অধিষ্ঠিত হন।
আজ ২২তম তারাবি অনুষ্ঠিত হবে। আজকের তারাবিতে যে সুরাগুলো তেলাওয়াত করা হবে; প্রতিটি সুরার রয়েছে আলাদা আলাদা ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য। যেগুলোর আমল করা মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুরাগুলোর আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-
সুরা যুখরূফ-এর আমলের ফজিলত- তাফসিরে দুরারুন নজমে এসেছে, এ সুরাটি লিখে বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে পান করলে কফ-কাশি দূর হয়।- যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে, সুরা যুখরূফ তেলাওয়াত করছে, তার অর্থ দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে সফল হবে আর পরকালে সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।
বিজ্ঞাপন
সুরা দুখান-এর আমলের ফজিলত- ইবনে মারদুবিয়া হজরত আবু উমামা বাহেলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর রাতে অথবা জুমআর দিনে সুরা দুখান তেলাওয়াত করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য জান্নাতে একটি মহল তৈরি করেন।
আরও পড়ুন > নামাজ পড়বেন যেভাবে
– বাইহাকি বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর রাতে এ সুরা এবং সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে। সে সকালে এমন অবস্থায় জাগ্রত হবে যে, তার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে।- ইমাম তিরমিজি ও বাইহাকি হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সুরা দুখান তেলাওয়াত করবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকবে।- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় সুরা দুখান, সুরা গাফের ও আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করবে, সকাল পর্যন্ত তাঁর হেফাজত করা হবে এবং সে কোনো প্রকার মন্দ কিছু দেখবে না।
সুরা ঝাছিয়া-এর আমলের ফজিলত- যে ব্যক্তি স্বপ্নে এ সুরাকে পাঠ করতে দেখে, তার মধ্যে দুনিয়া ত্যাগের ভাব তৈরি হবে এবং সে পরহেজগার তথা আল্লাহভীরু হবে।- সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর কেউ যদি এ সুরা লিবিপদ্ধ করে তার দেহে বেঁধে রাখে, তবে সব ধরনের কষ্টদায়ক বস্তু থেকে নবজাতক শিশু হেফাজত থাকবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ সুরাগুলোর নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন। আামিন।