
খুলনা (২৬ ফেব্রুয়ারি)
খুলনায় ৬দিন ধরে নিখোঁজ ব্যবসায়ি কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের খোঁজে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া খুলনা থানা পুলিশের একাধিক টিম তার সন্ধান করছে। এসব সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত নিখোঁজের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখছে। তিনি লোয়ার যশোর রোডস্থ ২৯ নং হোল্ডিয়ের বাসিন্দা। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে নিখোঁজ হন তিনি।
থানা পুলিশ ছাড়া কেএমপি’র নগর বিশেষ শাখা, র্যাব ও পিবিআই এ ব্যাপারে তৎপর বলে ব্যবসায়ি পিতা কাজী আব্দুস সোবহান দাবি করে। গণমাধ্যমের দেওয়া তার ভাষ্য অনুযায়ি নিখোঁজ ছেলের কাছে মোবাইল, ডিভাইস, পাসপোর্ট ও ভিসা নেই। তিনি কাজী গ্রুপের স্বত্তাধিকারী। তার অধিনে করপোরেট হাউজগুলো হচ্ছে কাজী সোবাহান অটো রাইস মিল, পেট্রোল পাম্প, পাথর, বালু, কয়লা ও গাড়ি। তিনি বাদী হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মোল্লা জুয়েল বলেন, গত ৬ দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্তরের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।
খুলনা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ও পাশ্ববর্তী এলাকার সকল সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ হয়েছে বলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান। সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৭ জন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার তার খোঁজে নেমেছেন। বুধবার মাঠে ছিলেন ৫ জন কর্মকর্তা। একটি সূত্রের উদ্বৃতি দিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সাথে এ পরিবারের আর্থিক লেনদেন রয়েছে। কাজী গ্রুপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে যেমন বড় অংকের দেনা তেমনি সহযোগি ব্যবসায়িদের কাছেও তাদের পাওনা রয়েছে।
এ প্রতিষ্ঠানের সূত্র অনুযায়ি পুলিশ ছাড়াও পিবিআই ও নগর বিশেষ শাখা তার উদ্ধারে নেমেছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ ব্যবসায়ির পিতা সন্তান উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবার সূত্র জানায়, ২১ ফেব্রুয়ারী আমার ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন নিজ বাসভবনে ইফতার করে। এরপর একটু রেষ্ট নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে সে পুলিশ লাইন মসজিদে তারাবিহ-এর নামাজ আদায় করতে যায়। মসজিদে সে নামাজ আদায় করে প্রায় আধাঘন্টা পর মসজিদ থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সে মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে। এরপর আর তাকে দেখা যাচ্ছে না। আশপাশের অনেক সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তার অবস্থান জানা যায়নি। মসজিদের সামনে থেকে সুজনের নিখোজ হয়ে যাওয়াটা খুবই রহস্যজনক।