ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। চলছে প্রতিবাদে বিক্ষোভ। কথা উঠছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের বিষয়ও। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফের পর্যালোচনা করবে। সাইবার ক্রাইম কীভাবে বন্ধ করা যায়, তার ওপর জোর দিয়ে আইনের সংশোধন হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনের কয়েকটি ধারার অপপ্রয়োগ চলছে। যার অন্যতম নজির লেখক মুশতাকের মৃত্যু। এমন মৃত্যু আমরা আশা করি না। এটি সত্যিই দুঃখজনক। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় লেখক মুশতাক আহমেদের। ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগে প্রেপ্তার মুশতাক গত বছরের মে মাস থেকে কারাবন্দি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তার সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি অনলাইনে লেখালেখিতে বেশ সক্রিয় ছিলেন। ২০২০ সালের মে মাসে রমনা থানায় মুশতাকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে র্যাব। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়। হোয়াটস অ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে কিশোর ও মুশতাকের সঙ্গে তাসনিম খলিল, জুলকারনাইন সায়ের খান, শাহেদ আলম, আসিফ মহিউদ্দিনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ’ পাওয়ার দাবিও করেছিল র্যাব। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাÐে কারো সম্পৃক্ততা পেলে আইনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু এভাবে মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি জাতীয় সংসদে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাস হয়। তখন সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, এই আইনের এমন কিছু ধারা আছে, যা বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয় এবং ২৫ ও ২৯সহ চিহ্নিত ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানানো হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে আশ^স্ত করা হয়, আইনের কোনো অপব্যবহার হবে না। কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি। ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।