
জন্মভূমি ডেস্ক : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। এরই সঙ্গে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিচ্ছেন তারা। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, নির্বাচনে জনপ্রিয়তা কম ও পরাজয়ের ভয়েই এসব প্রার্থীরা পদত্যাগ করছেন।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সারাদেশে আট প্রার্থীর পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ৪ জন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী দুই জন এবং বিএনএমর প্রার্থী দুই জন।
॥ যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ॥
গাজীপুর-৪ জাপার প্রার্থী মো. সামসুদ্দিন খান মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ঘোলাটে। বিভিন্ন চাপ আছে আমার ওপর। সেই চাপ সামলানোর মতো শারীরিক বা মানসিক শক্তি আমার নেই। হুমকিও আছে। যেহেতু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই, তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের জাপার প্রার্থী মন্নান তালুকদার মঙ্গলবার সকালে জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রচার প্রচারণায় আমি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি না। এ অবস্থায় আমি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি আসন ভাগাভাগি ও প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।
দিনাজপুর-২ আসনে সরে দাঁড়ালেন জাপা প্রার্থী মাহবুব আলম। তিনি জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট নিরপেক্ষ নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। তাই তিনি নির্বাচনী সব ধরনের প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
॥ হবিগঞ্জ-২ আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাপা প্রার্থী শংকর পাল ॥
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়নোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে দলীয়ভাবে অনেক জায়গায় যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী কোনো কাজ হয়নি। আমি নির্বাচনে প্রস্তুত ছিলাম না। আমার জায়গায় অন্য একজনকে সমর্থন দিয়েছে, কিন্তু দেখা যায় নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলে আগের দিন আমার হাতে দলীয় মনোনয়ন আসে। কিন্তু আমি সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য মনোনয়ন দাখিল করেছিলাম। আমি ঢাকায় গিয়ে জানতে পারি মাত্র ২৬টি আসন নিয়ে সরকারের সাথে সমঝোতা হয়ছে, কিন্তু আমরা কিছুই জানি না।
ঝিনাইদহ-৩ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নবী নেওয়াজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এ প্রার্থী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধা রয়েছে বলেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রনজিত কুমার রায়। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক বাবুলকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। বেলা ১টার দিকে এ কথা নিজেই জানান তিনবারের সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনএমের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামছুল আবেদীন নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে নানা রকমের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয় আর এটি একবার করা হয়নি নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট সব জায়গা থেকে আমাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে গিয়ে প্রার্থিতা বৈধতা করে নির্বাচনে ফিরে এসেছি, কিন্তু আমার প্রথমে মনে হয়েছিল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু বর্তমানে যা দেখছি সেখানে বলতে হচ্ছে দেশে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটাই নাই।
সিরাজগঞ্জ-৫ (চৌহালী-বেলকুচি) আসনের বিএনএম’র নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাকিম নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর মামুনকে সমর্থন দিয়ে তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে গেছেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের প্রচারণা চলবে।